প্রচারণার অভাবে ক্রেতাশূন্য ডাকসু বইমেলা

ডাকসু আয়োজিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রেতাশূন্য বইমেলা  © টিডিসি ফটো

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) উদ্যোগে প্রথমবারের মতো ক্যাম্পাসে সপ্তাহব্যাপী ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বইমেলা’ শুরু হয়েছে। তবে বরাবরের মত ক্যাম্পাসে বইমেলার উপযোগী পরিবেশ থাকলেও প্রচারণার অভাবে ক্রেতাশূন্য দেখা গেছে এই মেলা প্রাঙ্গন।

শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) ডাকসু আয়োজিত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মেলা ঘুরে দেখেছেন ঢাবি প্রতিবেদক।

জানা যায়, ডাকসু উদ্যোগে আয়োজিত এ মেলা গত ১০ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়ে চলবে আগামী ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলে মেলার স্টলগুলো খোলা থাকে। এ মেলায় ৮০টিরও বেশি প্রকাশনী অংশগ্রহণ করেছে। তবে ১০ ঘণ্টা করে নিয়মিত চললেও প্রচারণার অভাবে তেমন সাড়া ফেলতে পারেনি বলে মনে করছেন শিক্ষার্থীরা।

মেলা পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, স্টলে বই সুন্দরভাবে সাজানো-গোছানো থাকলেও দর্শনার্থীদের অংশগ্রহণ তেমন চোখে পড়ার মতো ছিল না।

স্টল মালিকরা জানিয়েছেন, এবারের মেলায় তাদের স্টলের জন্য ডাকসুকে তিন হাজার টাকা করে দিতে হয়েছে। তবে তারা এ টাকা দিয়ে স্টল নিলেও ৪ দিনের মাথায়ও তিন হাজার টাকার বই বিক্রি করতে পারেননি অনেকে। তবে কয়েকটি স্টল মোটামুটি ভাল বিক্রি করেছেন বলে জানান তারা।

তারা আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের কারণে তারা তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী বই বিক্রি করতে পারছেন না। যার কারণে অনেকে স্টল নিয়মিত খুলছেও না। তবে, ডাকসু বলছে ভিন্ন কথা। তারা জানিয়েছেন, ডাকসুর অন্যান্য প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা না করে সাহিত্য সম্পাদক মাজহারুল কবির শয়ন নিজে একা সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণে এমনটি হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাসুদ পারভেজ বলেন, ‘অনেক প্রত্যাশা নিয়ে বইমেলায় এসেছি কিন্তু এসে দেখি দর্শকশূন্য। আমার মনে হয় বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের সময়ে বইমেলা আয়োজন করার কারণে এমনটি হয়েছে।’

এশিয়ান পাবলিকেশনের তুষার বলেন, ‘বই ভাল বিক্রি হচ্ছেনা। আমাদের প্রত্যাশা ছিল অনেক। কিন্তু প্রথমদিন থেকেই মানুষ শূন্য এই বইমেলা। আমরা যা ভেবেছিলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেলায় কিন্তু সেরকম লোকজন আসছেনা। সারাদিনে দুই তিনটি বই বিক্রি করছি মাত্র। এই বইমেলায় আমাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে।

এজিএস (সহ-সম্পাদক) সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘বই মেলায় বই বিক্রি হচ্ছেনা এটা ঠিক নয়। প্রকাশনা ভেদে পার্থক্য থাকবেই। এটা শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বইমেলায় নয় দেশের অন্যান্য জায়গার বইমেলাতেও এমনটি হয়।’

ডাকসু ভিপি (সহ-সভাপতি) নুরুলহক নুর বলেন, ‘ডাকসুর অনেক সম্পাদক চিন্তা করে তার নামে বাজেট আছে যা এখন খরচ তো করতে হবে। যার কারণে অনেকগুলো সিদ্ধান্ত আলোচনা না করে নেওয়ার ফলে আরো বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। ডাকসুর বাজেট খরচ করার জন্য একেক জন তার মন গড়া এসব সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। এখন ক্যাম্পাস বন্ধ। এছাড়া বাকি অধিকাংশ বিভাগের পরীক্ষা চলছে। এখন এই ধরনের প্রোগ্রাম করা উচিত হয়নি।’


মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ