রাব্বানীর ছাত্রত্ব বাতিলে হাইকোর্টে যাচ্ছেন রাশেদ

গোলাম রাব্বানী ও মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন  © ফাইল ছবি

নানা অনিয়মের অভিযোগে ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত নেতা গোলাম রাব্বানীকে ডাকসুর জিএস পদ থেকে অপসারণ এবং ঢাবিতে অবৈধভাবে ভর্তি হওয়া এমফিলের ছাত্রত্ব তথা ভর্তির সব কার্যক্রম বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিট করার কথা জানিয়েছেন জিএস প্রার্থী মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন। তিনি বলেছেন, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির অভিযোগে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কৃত গোলাম রাব্বানীর অবৈধ ভর্তি বাতিলের জন্য ঢাবি প্রশাসন বরাবর উকিল নোটিশ পাঠিয়েও কোন উত্তর না পাওয়ায় মহামান্য হাইকোর্টে ‘রিট’ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

এর আগে রাব্বানীর ভর্তি বাতিল চেয়ে রাশেদ খানের পক্ষে ডাক ও রেজিস্ট্রিযোগে নোটিশ পাঠান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হাসনাত কাইয়ুম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর চেয়ারম্যান ঢাবি ভিসি ও রেজিস্ট্রারকে এই নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশে তার এমফিলে অবৈধভাবে ভর্তি কার্যক্রমের সঙ্গে কারা জড়িত তাদের বিষয়ে অনুসন্ধানের জন্যও বলা হয়েছে।

সে সময় আইনজীবী হাসনাত কাইয়ুম বলেছিলেন, সাতদিনের মধ্যে গোলাম রাব্বানীর ছাত্রত্ব বাতিল ও জিএস পদ থেকে অপসারণ করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে সময় দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আইনজীবী আরো জানান, বৈধ ছাত্র না হয়েও গোলাম রাব্বানী জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে ছাত্রত্ব দেখিয়েছেন। আর বৈধ ছাত্র হিসেবে গত ১১ ফেব্রুয়ারি তাকে ডাকসু নির্বাচনের ফলাফলে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়াও অবৈধ ছাত্র হয়েও যারা বৈধ ছাত্র দেখিয়ে জয়ী হয়েছে তাদের সকলের পদ বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে নোটিশে। সেখানে বলা হয়েছে, গত ১৫ অক্টোবর একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ডাকসু নির্বাচনের সময় গোলাম রাব্বানী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বৈধ ছাত্র ছিলেন না। জালিয়াতির মাধ্যমে তিনি ছাত্রত্ব দেখিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। যেহেতু বৈধ ছাত্র ছিলেন না সেহেতু তার ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে থাকা অবৈধ।

এতে আরো বলা হয়, ঢাবি ভিসি এ বিষয়ে নির্লিপ্ত ভূমিকায় আছেন। যা দুর্ভাগ্যজনক। ডাকসু সাধারণ সম্পাদক বৈধ ছাত্র নন এটা প্রকাশের পর ভিসি কোনো তদন্ত বা পদক্ষেপ নেননি। বরং নীরব থেকে দেশ ও জাতিকে বিভ্রান্ত করেছেন। আন্দোলন ও নেতৃত্ব তৈরির সূতিকাগার ঢাবির মতো প্রতিষ্ঠানের অভিভাবক ও প্রশাসনের প্রধান নির্বাহী ভিসির কাছ থেকে এ ধরনের নীরবতা হতাশাজনক।

উল্লেখ্য, একটি জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর এমফিল (মাস্টার অব ফিলোসফি) ভর্তিতে অনিয়ম করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের এমফিলের ছাত্র হিসেবে তিনি ডাকসু নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু ঢাবির এমফিল প্রোগ্রামে ভর্তির নিয়ম অনুযায়ী, কোনো শিক্ষার্থী এমফিলে ভর্তি হতে চাইলে সংশ্লিষ্ট বিভাগে আবেদনের পর বিভাগের একাডেমিক কমিটি, অনুষদ সভা, বোর্ড অব অ্যাডভান্স স্টাডিজের সভার সুপারিশের পর একাডেমিক পরিষদের সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

গোলাম রাব্বানীকে এমফিলে ভর্তির ক্ষেত্রে অনুষদ সভার সুপারিশ ছিল না। এমনকি বোর্ড অব অ্যাডভান্স স্টাডিজ ও একাডেমিক পরিষদের নিয়মিত যে এজেন্ডা, সেখানেও তার নাম পাওয়া যায়নি।


মন্তব্য

এ বিভাগের আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ