ঢাবিতে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করবে ছাত্রলীগ

আগামীকাল শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হবে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের সহযোগিতার জন্য দশটি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ।

আজ বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ১২ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করে এসব কর্মসূচির কথা জানান বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস। এসময় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনসহ ছাত্রলীগের কয়েকশত নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের সহযোগিতার জন্য ছাত্রলীগের গৃহীত কর্মসূচিগুলো সনজিত চন্দ্র দাস পাঠ করে শোনান। কর্মসূচিগুলো হলো- ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনে হল ছাত্রলীগ পরীক্ষার পূর্ব রাতে থাকার সুব্যবস্থা করবে। শিক্ষার্থীদের পরিবহনের জন্য জয় বাংলা বাইক সার্ভিস চলমান থাকবে।

পরীক্ষা কেন্দ্র পরিচিতির জন্য দিক নির্দেশক চিহ্ন ও সার্বক্ষণিক স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত থাকবে। সুপেয় খাবার পানির ব্যবস্থা করা হবে। কলম ও আনুষঙ্গিক শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হবে। শিক্ষার্থীদের ব্যবহৃত অথচ পরীক্ষা কেন্দ্রে নেওয়ার অনুপযোগী জিনিসপত্র রাখার ব্যবস্থা করা হবে। বিভিন্ন পয়েন্টে স্থায়ী তথ্য কেন্দ্র থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করা হবে।

প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য হুইলচেয়ার ও প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সরবরাহ করা হবে। ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের সাথে আগত অভিভাবকদের বিশ্রামের জন্য চেয়ার, হাতপাখা ও খাবার পানির ব্যবস্থা করা হবে। হটলাইনের মাধ্যমে যে কোনো প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক সেবা প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে।

ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে কেউ যেন কোনো ধরণের অসদুপায় অবলম্বন না করে সেজন্য গণমাধ্যমকর্মী, পরীক্ষার্থী, অভিভাবক, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি সংবাদ সম্মেলনে আহ্বান জানান সনজিত।

এর আগে সাদ্দাম হোসেন প্রশ্নফাঁস ও জালিয়াতি রোধের জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘যদি এবার ভর্তি পরীক্ষায় কোনো ধরনের অসদুপায় ও জালিয়াতি হয় তাহলে ছাত্রলীগ এর দাঁতভাঙ্গা জবাব দেবে।

এছাড়া, প্রশ্নফাঁস ও জালিয়াতি রোধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পাশাপাশি অভিভাবক ও গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা কামনা করেন সাদ্দাম, যেন কোনো শিক্ষার্থী অনৈতিক উপায়ে পরীক্ষা না দেয়।

মেডিকেল ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সকল পাবলিক বিশ্বিবদ্যালয়ে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা হওয়া উচিত কিনা এসম্পর্কে ছাত্রলীগের মতামত জানতে চাইলে সংবাদ সম্মেলনে সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব একটা স্বাতন্ত্র্য আছে। কিন্তু গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব স্বায়ত্তশাসন, স্বাতন্ত্র্য ও বৈচিত্র হারাবে।’

তিনি বলেন, গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা হলে দুর্নীতি হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। ফলে গুচ্ছ পদ্ধতিতে একটি বুমেরাং হবে বলে ছাত্রলীগ মনে করে।

আগামীকাল শুক্রবার সকাল দশটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদভুক্ত ‘গ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হবে। এছাড়া, বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘ক’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা ২০ সেপ্টেম্বর, কলা অনুষদভুক্ত ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা ২১ সেপ্টেম্বর, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদভুক্ত সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা ২৭ সেপ্টেম্বর, চারুকলা অনুষদভুক্ত ‘চ’ ইউনিটের সাধারণ জ্ঞান পরীক্ষা ১৪ সেপ্টেম্বর ও অঙ্কন পরীক্ষা ২৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।


মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ