এবার নিজ শহরে হামলার শিকার ভিপি নুর

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি নুরুল হক নুরের উপর হামলা হয়েছে। বুধবার (১৪ আগস্ট) পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার সংযোগ সেতু উলানিয়া বন্দরে এ হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা এই হামলা চালিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। 

বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম-আহবায়ক ‍মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রাশেদ খাঁন জানান, আজ দুপুরের দিকে গলাচিপা উপজেলায় এক বড় ভাইয়ের বাড়িতে দাওয়াতে যাচ্ছিল নুর ও কয়েকজন। সেখানে যাওয়ার পথে উলানিয়া ব্রিজে কিছু ছাত্রলীগ কর্মী তাকে দাঁড়াতে বলে। তারা দাঁড়াতেই তাদের উপর লাঠি ও রড দিয়ে মারধর শুরু করে। পরে নুর সহ অন্যাদের একটি স্টিলের দোকানে ঢুকিয়ে ব্যাপক মারধর করা হয়। পরে নুর ছাড়া অন্যদের বের করে দেয়া হয়। 

হামলার সময় নুরের সঙ্গে ছিলেন হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাহিম। তিনি জানিয়েছেন, হামলার এক পর্যায়ে নুরকে ওই দোকানে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হামলার নেতৃত্বে ছিলেন যুবলীগ নেতা মাইনুল হাসান রনো ও ছাত্রলীগের সাবেক আহবায়ক ফরিদ আহসান কচিন।

অবরুদ্ধ ভিপি নুর!

পটুয়াখালির গলাচিপায় হামলার পর ভিপি নুর অবরুদ্ধ রয়েছেন বলে জানাচ্ছেন ঘটনাস্থলে থাকা কয়েকজন। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ব্রিজ এলাকায় আসার এক পর্যায়ে কয়েকজন ‍যুবক নুরদের উপর হামলা চালায়। এসময় তাদের অনেকের হাতে লাঠি রড় ও স্টিলের বার ছিল। এবং তাদেরকে স্টিলের দোকানটিতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অনেক হৈচৈ হয়েছে।

মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, হামলার খবর পেয়ে আমরা তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করি। কিন্তু কথা বলা সম্ভব হয়নি। এছাড়া হামলার সময় যারা নুরের সঙ্গে ছিলেন তারা জানান, নুরকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অবরোধ করে রেখেছেন।

এদিকে হামলার খবর পাওয়া পর ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুরুর মোবাইলে একাধিক বার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে লাইন ব্যস্ত রয়েছে বলে সংযোগ কেটে যাচ্ছে।

পুলিশের সহযোগিতায় উদ্ধার: দুপুর দুইটার পর নুরকে পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় উদ্ধার করা হয়। পটুয়াখালীর সার্কেল এসপি মু. হাফিজুর রহমান ও গলাচিপা থানার ওসি আকতার হোসেন তাকে উদ্ধার করে অ্যাম্বুলেন্সে করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। 

তবে তার সঙ্গে পরিবারের সদস্য ছাড়া অন্য কাউকে থাকতে দেয়া হয়নি বলে জানায় তার বন্ধুরা।

এদিকে গলাচিপা থানার ওসি আকতার হোসেন নুরের ওপর হামলার সত্যতা স্বীকার করে জানান, কিছুসংখ্যক দুষ্কৃতকারী এ হামলা চালিয়েছে। তবে কে বা কারা হামলা চালিয়েছে এ বিষয়ে ওসি বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেননি।

এর আগে গত রমজানে বগুড়া ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ইফতার মাহফিলে যোগ দিতে গিয়ে হামলার শিকার ভিপি নুর সহ অনেকে। সেখানেও স্থানীয় ছাত্রলীগের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়। তবে হামলার ঘটনায় নিজেদের নেতা-কর্মীদের সংশ্লিষ্টতা পায়নি বলে দাবি ছাত্রলীগের।


মন্তব্য