অ্যাপোলোতে আটকা পড়েছে ঢাবি শিক্ষার্থীর লাশ, ৩ দিনে বিল তিন লাখ!

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রিফাত হোসাইন মারা গেছেন। আজ রোববার বিকাল তিনটায় রাজধানীর অ্যাপোলে হাসপাতালে মারা যান। গত ৯ আগস্ট তাকে অ্যাপোলে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই তিনদিনে হাসপাতালে মোট বিল এসেছে প্রায় তিন লাখ টাকা।এরমধ্যে বকেয়া রয়েছে ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা। মোটা অংকের এই বিল রিফাতের পরিবারের পক্ষে পরিশোধ করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে তার সহপাঠিরা।

এই টাকা যোগাড় করে রিফাতের মরদেহ হাসপাতাল থেকে বের করতে হিমশিম খাচ্ছেন আত্মীয়-স্বজন ও সহপাঠিরা। ছেলের মৃত্যুতে বাবা ভেঙ্গে পড়ায় মোবাইলে তার সঙ্গে যোগাযোগ করে কথা বলা যায়নি। হাসপাতালে থাকা রিফাতের সহপাঠি মেহেদি দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানিয়েছেন, রিফাতের মরদেহ বের করার জন্য তারা টাকা যোগাড়ের ব্যবস্থা করতেছেন। স্থানীয় সামাজিক সংগঠন ও বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা সংগ্রহের চেষ্টা করছেন তারা।

বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে তিনি দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আমরা হাসপাতালে যাচ্ছি। সেখানে গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলব। এবং রিফাতের মরদেহ বের করার চেষ্টা করব। 

নিহত রিফাত বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্র বিজ্ঞান বিভাগের ৩য় বর্ষে পড়তেন। গ্রামের বাড়ি গাজীপুরে টঙ্গীতে। তিনি সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হলের অনাবাসিক শিক্ষার্থী ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষণিকা বসে আসা-যাওয়া করতেন। 

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রিফাত জ্বরে আক্রান্ত হলে প্রথমে গাজীপুরের স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে গত ৯ আগস্ট রিফাতকে অ্যাপোলে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে লাইফ সাপোর্টে নিয়ে যাওয়া হয়। ডেঙ্গুর প্রভাবে তার কিডনি ড্যামেজ হয়ে গেছিলো।ফলে আজ বিকালে তার মৃত্যু ঘটে।

রিফাতের বন্ধু রিয়াদ বলেন, রিফাতের পরীক্ষা চলছিলো। এরমধ্যে সে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে গত ৯ আগস্ট তাকে অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং আজ বিকাল তিনটার দিকে সে মৃত্যুবরণ করে। এদিকে হাসপাতালে তিনদিনে বিল এসেছে প্রায় তির লাখ। তার মধ্যে ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা বাকী রয়েছে। তার পরিবারের পক্ষে এতো টাকা জোগাড় করা কোনো ভাবেই সম্ভব নয় বলে জানান তিনি। 

এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেসবুক গ্রুপ সহ বিভিন্ন ভাবে রিফাতের বন্ধুরা ফান্ড সংগ্রহে নেমেছেন। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনসহ অনেকে ব্যক্তিগত উদ্যোগে এগিয়ে এসেছেন বলে জানিয়েছেন হাসপাতালে থাকা রিফাতের বন্ধু মেহেদি।

এদিকে অনেকে দাবি করছেন, রাজধানীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার পর থেকে হাসপাতালগুলোরতে চিকিৎসেবার দাম বহুগুনে বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা রোগীদের জিম্মি করে ব্যবসা করে যাচ্ছেন। এটি কোনভাবে কাম্য নয়। এর আগে রাজধানীর আরেক হাসপাতালের বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ ‍উঠে। ওই হাসপাতাল মাত্র ২২ ঘন্টায় প্রায় ২ লাখ টাকা বিল করেছিল। পরে এই নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখায়। 

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, গতকাল থেকে রিফাতের পরিবারের সাথে আমাদের যোগাযোগ ছিলো। আজ দুঃখের খবরটি শুনলাম। হাসপাতালে বিল হয়েছে অনেক। ওরা (হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ) এমন বিল করে কোন বুঝতে পারি না। ছেলেটাতো ছাত্র ব্যবসায়ী বা চাকরিজীবী না। আমি বিভাগের চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলেছি। আমরাও যোগাযোগ করছি। তিনি আরো বলেন, সাংবাদিকদের মাধ্যমে একটা আবেদন থাকবে কোনো শিক্ষার্থী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে আমাদের যেন আগে থেকেই জানায়। কিন্তু আমরা যখন জানি তখন একদম লাস্ট স্টেজে থাকে। আগে জানলে হয়তো চিকিৎসার বিষয়ে একটু খেয়াল রাখতে পারতাম।

তিনি আরও বলেন, আমরা অত্যন্ত ব্যথিত ও মর্মাহত। ঈদের এক দিন আগে আমাদের এমন খবর শুনতে হবে সেটা আমরা ভাবতেও পারিনি। আমরা রিফাতের পরিবারের পাশে আছি এবং হাসপাতালে যে বিল এসেছে তা যাতে অর্ধেকে কমিয়ে আনা যায় সে চেষ্টা করছি।

এর আগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফিরোজ কবীর স্বাধীনের।বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৩-২০১৪ সেশনের ব্যবসায় অনুষদের ফিন্যান্স বিভাগের ছাত্র ছিলেন।তিনি রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেন। স্বাধীনকে বাঁচাতে না পারলেও মাত্র ২২ ঘন্টায় তার পরিবারের কাছে এক লাখ ৮৬ হাজার ৪৭৪ টাকা বিল তুলে দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

তখন এমন খবরে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন অনেকে। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকেও চলছিল এ নিয়ে সমালোচনা।

 


মন্তব্য