একজন ফারুক স্যার বনাম দুর্নীতিবাজদের মসনদে কাঁপন!

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বনামধন্য অধ্যাপক ড. আ ব ম ফারুক স্যারের একটি গবেষণায় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে দলীয় এজেন্টদের অসাধু উপায়ে গড়া মসনদ কেঁপে উঠেছে। না জানি এরকম ফারুক স্যার যদি সমগ্র বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে থাকতো তাহলে এই দুর্নীতিবাজ আমলারা লেজ গুটিয়ে পালানোর পথ খুঁজত।

আমার আজ লজ্জা লাগে পরিচয় দিতে যে আমি এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি যেখানকার শিক্ষক সমাজ দুর্নীতিবাজদের পক্ষ অবলম্বন করে। আমি শুধু অবাকই হই না, রীতিমতো বিস্মিত আমি!

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গুলোকে বলা হয় দেশের গবেষণাগার। অথচ বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে কোন গবেষণাই হয় না। তারমধ্য যেটুকু হয় সেটাও আবার হুমকি ধামকির কবলে পরে ছাতুছান অবস্থা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বনামধন্য অধ্যাপক ফারুক স্যার পাস্তুরিত প্যাকেটজাত দুধ নিয়ে গবেষণা করে দেখলেন যে এই সব দুধে শরীরের জন্য ক্ষতিকর ক্যামিকেল মেশানো হয়েছে। এই ফলাফল দেখে অসাধু আমলারা তো রীতিমতো তুলকালাম কাণ্ড করে ফেললেন। সরকারের একজন দায়িত্বশীল বড় আমলা তো সরাসরি স্যারকে হুমকি দিয়ে বসলেন।

আমি তাতেও অবাক হই নি, কারণ এসব দুর্নীতিবাজ আমলারা এরকম করবেই কারণ তাদের স্বার্থের বাইরে কোনকিছু গেলেই হুমকি ধামকি তাদের চিরায়ত প্রথা।

আমি তখনই অবাক এবং লজ্জিত হই যখন নিজের সহকর্মীরা এরকম দেশের স্বার্থে জনগণের স্বার্থে করা একটি গবেষণার ফলাফলকে বলে এসব গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে কোন সম্পর্ক নেই আর এর দায়ভার বিশ্ববিদ্যালয় নেবে না।

আজকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা কি পরিমাণ দলীয় চাটুকার হয়েছে তার বাস্তব উদাহরণ হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী বিভাগ।এসব চাটুকারিতা বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে চললে, গবেষণা তো দূরে থাক কোন ভালো মানুষ বের করাও কঠিন। আর আমরা চিল্লাতে চিল্লাতে গলা ফাটিয়ে দেই কেন বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় গুলো বিশ্ব র‌্যাংকিং এ নাই। এইবার বুঝলেন তো কেন আমরা বিশ্বদরবারে যেতে পারি না..?

তবে ফারুক আহমেদ স্যার আপনার কোন ভয় নেই। আমরা পুরো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আপনার পাশে আছি। আপনি আপনার এই গবেষণা কার্যক্রম চালিয়ে যান। সৎ এবং ন্যায়ের বিজয় সবসময়, দুর্নীতিবাজ এবং চাটুকারদের পরাজয় খুব দ্রুত হবে।


লেখক: শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। যুগ্ম-আহবায়ক, বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ।


মন্তব্য