সিনেট অধিবেশনে যোগ দিলেন ভিপি নুর

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেটের বার্ষিক অধিবেশনে যোগ দিয়েছেন ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর। আজ বুধবার বিকাল ৩টা ১৫মিনিটে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে প্রবেশ করেন। গত মার্চে অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে তিনি ভিপি পদে জয়ী হন। প্রায় তিন দশক পর আজ সিনেট অধিবেশনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে কথা বলার জন্য ছাত্র প্রতিনিধি থাকছেন।

এবারের সিনেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের বাজেট উপস্থাপন করা হবে। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন সিনেটের চেয়ারম্যান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান।

এই সিনেট অধিবেশনে প্রায় তিন দশক পর কোনো ছাত্র প্রতিনিধি অংশ নিতে যাচ্ছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নির্বাচিত পাঁচ জন ছাত্র প্রতিনিধি এতে অংশ নিচ্ছেন। এ অধিবেশনে ডাকসুর সহ সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুরের অংশগ্রহণ নিয়ে নানা ধরণের গুঞ্জন থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনি যাচ্ছেন বলে নিশ্চিত করেছেন।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে নুরুল হক নুর বলেন, ‘এর আগে সিনেট অধিবেশনে যাওয়ার ব্যাপারে আপত্তি থাকলেও ছাত্রদের বৃহৎ সমস্যা সমাধানে সেখানে যাওয়া দরকার বলে মনে করছি।’

এসময় কী ইস্যুতে কথা বলবেন- এমন প্রশ্নের জবাবে নুর বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মূল সমস্যা আবাসন সংকট এবং কারণে-অকারণে ছাত্র নির্যাতন- এ দুটি বিষয় নিয়ে বেশি জোর দিতে চাই। পাশাপাশি গণরুম সংস্কৃতি, লাইব্রেরিসহ বেশ কিছু স্থানে অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং ডাকসু নির্বাচনের ধারাবাহিকতা যেন বজায় থাকে- সেটা নিয়ে কথা বলব।’

তিনি বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচনে যে অনিয়ম হয়েছে সে ব্যাপারে সিনেটে কথা বলব। আমার দাবি থাকবে, এবার নির্বাচনে যে অনিয়ম হয়েছে, ভবিষ্যতে যেন তা আর না হয়। এজন্য আগামীতে আগে থেকেই প্রয়োজনীয় পদেক্ষেপ নিতে হবে।’ এর বাইরেও ছাত্রদের বেশ কিছু অধিকার রক্ষায় কথা বলার ইচ্ছা রয়েছে বলে জানান নুর।

এর আগে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদে (ডাকসু) নির্বাচিত না হয়েও সিনেট সদস্য করা হয় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাসকে। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন নুর। বলেন, ‘ডাকসুতে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত হয়নি, সেই প্রতিনিধিরা সিনেটে প্রতিনিধিত্ব করবেন—এটি আমি সমর্থন করি না। আসন্ন সিনেট সভা আমি বর্জন করতে পারি।’

অবশ্য সে সময় উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ডাকসুর প্রতিনিধিরা চাইলে ডাকসুর বাইরে থেকেও সিনেট সদস্য মনোনীত করতে পারেন। বিগত সময়েও এভাবে হয়েছে। ডাকসুর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো শিক্ষার্থী সিনেট সদস্য হতে পারেন। ১৯৭৩-৭৪ সালের ডাকসুতেও এভাবে সিনেট সদস্য হয়েছিলেন।

প্রসঙ্গত, ১৯৭৩ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশের ২০ (ঠ) ধারায় বলা হয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) মনোনীত শিক্ষার্থীদের পাঁচজন প্রতিনিধি বিশ্ববিদ্যালয় সিনেটের সদস্য হবেন। সেই সূত্রে আজ সিনেট অধিবেশনে যাচ্ছেন নুর-শোভন-রাব্বানী-সঞ্জিতরা।

পড়ুন: শিক্ষার্থীদের মানববন্ধনে দাঁড়িয়ে গেলেন শোভন-রাব্বানী-সনজিত


মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ