ডাকসু নির্বাচন

উপদেষ্টা পরিষদে আওয়ামী লীগের ১৩, বিএনপির ২

নেই বামপন্থী কোন শিক্ষক
১৮ জানুয়ারি ২০১৯, ০৪:৪৬ PM
ডাকসুর উপদেষ্টা পরিষদের কয়েকজন

ডাকসুর উপদেষ্টা পরিষদের কয়েকজন © টিডিসি ফটো

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের ডামাডোল চলছে। মার্চে অনুষ্ঠেয় এ নির্বাচনকে ঘিরে গঠনতন্ত্র সংশোধন কমিটির পর এবার রিটার্নিং অফিসারও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গঠন করা হয়েছে ১৫ সদস্যবিশিষ্ট উপদেষ্টা পরিষদও। তবে অভিযোগ উঠেছে, সদ্য গঠিত এই কমিটিতে দায়িত্ব পাওয়া অধিকাংশ সদস্যই আওয়ামীপন্থী নীল দলের সদস্য; বিএনপিপন্থী সাদা দলের সদস্য দুই জন। অন্যদিকে স্থান হয়নি বামপন্থী রাজনীতির মতাদর্শী কোনো শিক্ষকের। ফলে একের পর এক গঠিত এসব কমিটির অধীনে ডাকসু নির্বাচন কতটা অবাধ ও সুষ্ঠু হবে— তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ।

তথ্যমতে, নিবার্চনের জন্য এরই মধ্যে সব ধরনের আইনগত জটিলতা দূর হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কতৃর্পক্ষও বলছেন, তারা আগামী মাচের্র মধ্যেই নিবার্চন আয়োজনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এরই অংশ হিসেবে ভোটার তালিকার কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে এসেছেন কতৃর্পক্ষ। সময়োপযোগী করতে গঠনতন্ত্রও সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে গঠিত ৫ সদস্যের কমিটি ক্যাম্পাসে ক্রিয়াশীল ১৩টি ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের মতামত লিখিতভাবে গ্রহণ করেছেন। যদিও এত সব কার্যক্রমের মধ্যেও অভিযোগ থেকেই যাচ্ছে। যার সর্বশেষ তীর রিটার্নিং অফিসার ও উপদেষ্টা কমিটির বিরুদ্ধে লাগলো।

বিএনপিপন্থী শিক্ষক ও ছাত্রনেতরা বলছেন, শুধু উপদেষ্টা পরিষদ নয়; এর আগে গঠনতন্ত্র সংশোধনের জন্য গঠিত ৫ সদস্যের কমিটিতেও বিএনপি কিংবা বামপন্থী রাজনীতিতে বিশ্বাসী কোনো শিক্ষকের স্থান হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম (এফএইচ) হলের প্রাধ্যক্ষ ও আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমানসহ ওই কমিটির অন্য চারজন যারা রয়েছেন; তারা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্যসেন হলের প্রাধ্যক্ষ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামাল, কবি জসীম উদ্দীন হলের প্রাধ্যক্ষ ও আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. রহমত উল্লাহ, রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষা অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা এবং শামসুন নাহার হলের প্রাধ্যক্ষা অধ্যাপক ড. সুপ্রিয়া সাহা।

অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যমতে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ডাকসু ও হল সংসদ গঠনতন্ত্রের ৮(ই) ধারা অনুযায়ী ডাকসু নির্বাচনের পরিচালনার জন্য রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়। হল সংসদ নির্বাচন পরিচালনার লক্ষ্যে এই দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিভাগের অধ্যাপক ড. এস এম মাহফুজুর রহমান। যিনি ২০০১ সালে আওয়ামী লীগের শেষ সময়ে শহীদ সার্জেন্ট জহরুল হলের প্রভোস্ট ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তি থেকে পাঠানা তথ্যমতে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবের সেক্রেটারি ও এশিয়াটিক সোসাইটির সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের পাওয়া তথ্যের আলোকে উপদেষ্টা পরিষদের ক্রম অনুযায়ী প্রথমেই রয়েছেন- ইতিহাস বিভাগের সংখ্যাতিরিক্ত অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ। সূত্রের তথ্য, ড. শহীদুল্লাহ আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। মেয়াদ পূর্ণ করেন ২০১৩ সালের ৫ মার্চ। সম্প্রতি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ফরিদপুর-৪ আসনে নৌকা প্রতীকের পক্ষে প্রচারণায় দেখা গেছে তাকে।

দ্বিতীয় স্থানেই রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল। বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদের এই অধ্যাপক দীর্ঘদিন ধরেই নীলদল থেকে মনোনীত হয়ে শিক্ষক সমিতির সভাপতি পদে নির্বাচন করছেন।

শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম রয়েছেন তৃতীয় স্থানে। নীল দলের এ শিক্ষকও আওয়ামীপন্থী শিক্ষক রাজনীতির সঙ্গে অতপ্রোতভাবে জড়িত।

এরপরে থাকা বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুল আজিজও নীল দলের রাজনীতির সাথে জড়িত। নীল দলের সাবেক আহ্বায়ক তিনি। ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজী অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. হাসানুজ্জামান রয়েছেন এরপর। ক্লিন ইমেজের অধিকারী এই শিক্ষক সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে সাদা দল থেকে একমাত্র সদস্য হিসেবে জয় পেয়েছেন।

উপদেষ্টা পরিষদের আরেক সদস্য অধ্যাপক ড. এ কে এম নুর-উন-নবী নীল দলের হেভিওয়েট শিক্ষক। বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগের এ অধ্যাপক সর্বশেষ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এছাড়াও কমিটিতে থাকা অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী, বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ভীষ্মদেব চৌধুরী এবং গণিত বিভাগের সংখ্যাতিরিক্ত অধ্যাপক সাজেদা বানু আওয়ামীপন্থী শিক্ষক রাজনীতিতে জড়িত। একটি অসমর্থিত সূত্রের দাবি,  ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ ফরহাদ আনোয়ারও এই কাতারে। দীর্ঘদিন আগে নীল দল থেকে নির্বাচন করেছিলেন তিনি।

জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপদেষ্টা পরিষদের অধিকাংশই নীল দলের শিক্ষক; যেখানে সাদা থেকে মাত্র ২জন শিক্ষককে স্থান দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের ধারণা ছিল, সাদা দল থেকে শিক্ষক চাওয়া হবে; তার ভিত্তিতে এই কমিটিগুলো গঠন হবে। কিন্তু তা হচ্ছে না।’

অধ্যাপক ওবায়দুলের ভাষ্য, ডাকসু নির্বাচনের জন্য সবচেয়ে বেশি জরুরি সহাবস্থান নিশ্চিত করা। কিন্তু নতুন এই কমিটির নিয়োগের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নির্বাচনের শুরুতেই একটি বৈষম্যমূলক আচরণ করলো। প্রশাসন যদি সকল সংগঠনের আস্থা অর্জন করতে না পারে; তাহলে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও কলঙ্কিত রাজনীতির নজির সৃষ্টি হবে।’

যদিও উপদেষ্টা কমিরি সদস্য ও রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, কমিটিতে অধিকাংশ নীল দলপন্থী বিষয়টি ভেবে দেখা হয়নি। তারা উপদেষ্টা কমিটির সদস্য হয়েছেন; কিন্তু এখনো কাজ বুঝে পাননি।

প্রসঙ্গত, ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর ১৯২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সৃষ্টি হয়। মোট ৩৬ বার এ নিবার্চন অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্বাধীনতার পর গত ৪৮ বছরে মাত্র সাতবার ডাকসু নিবার্চন হয়েছে। ডাকসুর সবের্শষ নিবার্চন হয় ১৯৯০ সালের ৬ জুন। এরপর ৯১, ৯৪, ৯৫ ও ২০০৫ সালে তফসিল, এমনকি নিবার্চনের তারিখ ঘোষণা করা হলেও কিছু সহিংস ঘটনা, সুষ্ঠু পরিবেশ না থাকা ও ছাত্র সংগঠনের বিরোধিতা ইত্যাদি কারণে তা আর হয়ে ওঠেনি। ২০১২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ‘শিক্ষার্থী অধিকার মঞ্চ’ থেকে বিক্ষোভ, ধমর্ঘট, কালো পতাকা মিছিলের মাধ্যমে ডাকসু নিবার্চনের দাবি জানান সাধারণ শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতাকমীর্রা। আদালতে মামলার কারণে ২০১৭ সালের মাঝামাঝি থেকে এ দাবি আবার সামনে আসে। ওই বছরের ২৯ জুলাই ছাত্র প্রতিনিধি ছাড়া উপাচার্য প্যানেল নিবার্চনকে কেন্দ্র করে শিক্ষক ও শিক্ষাথীের্দর মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। যা ঢাবি প্রশাসনকে তীব্র সমালোচনার মুখে ফেলে। শিক্ষাথীের্দর আন্দোলন, রাষ্ট্রপতির নিদের্শ এবং আদালতের চাপের মুখে ২০১৮ সালে এসে বতর্মান উপাচার্য ২০১৯ সালের মাচের্র মধ্যে নিবার্চন আয়োজনের ঘোষণা দেয়।

অগ্রণী ব্যাংক পিএলসিতে চাকরি, আবেদন ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত
  • ২৭ আগস্ট ২০২৬
‘মক্কা প্যাক্ট মুসলিম সমাজের অভ্যন্তরীণ বিষয়, এতে কারো উদ্ব…
  • ২৭ আগস্ট ২০২৬
বিএনপির আমলেই ক্যাম্পাসগুলোর ছাত্রসংসদ বন্ধ হয়েছিল: রাকসু জ…
  • ২৭ আগস্ট ২০২৬
সংবাদ সম্মেলনে নেই কোচ-অধিনায়ক, তোপের মুখে ম্যানেজার
  • ২৭ আগস্ট ২০২৬
গুমের অধ্যাদেশে বিএনপি আওয়ামী লীগের পথেই হাঁটছে: সারজিস আলম
  • ২৭ আগস্ট ২০২৬
সরাসরি মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে চাকরি আবুল খায়ের গ্রুপে, নেবে…
  • ২৭ আগস্ট ২০২৬