‘মান-সম্মান বাঁচাতে এই সিদ্ধান্ত’— বাবা-মা ক্ষমা করে দিও

রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার বাকশিমইল উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিজ শয়নকক্ষ থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। আত্মহত্যার ঠিক আগ মুহূর্তে বাবা-মাকে উদ্দেশ্য করে লেখেন চিরকুট। চিরকুটে লিখে যান তার আত্মহত্যার কারণ।

বিভিন্ন সূত্র মারফত জানা গেছে, সহপাঠী সোনিয়ার সঙ্গে প্রাইভেট পড়তে যাওয়া-আসার পথে এলাকার কাজলের ছেলে মুকুল (১৮) তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিতো। বর্ষা এতে রাজি না হওয়ায় মুকুল বর্ষার বান্ধবী সোনিয়ার মাধ্যমে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। গত ২৩ এপ্রিল প্রাইভেট শেষে বর্ষাকে নিয়ে খানপুর বাগবাজার এলাকায় যায় বান্ধবী সোনিয়া। সেখানে হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়ে বর্ষা। তখন লোকজন তাকে উদ্ধার করে। তবে মুকুল লোকজনের কাছ থেকে বর্ষাকে শহরে নিয়ে যেতে চায়। খবর পেয়ে বাড়ির লোকজন বর্ষাকে উদ্ধার করে। এরপর তাকে প্রথমে মোহনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

যৌন নির্যাতনের ঘটনায় থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ ২৪ এপ্রিল মুকুলকে আটক করে। তবে ওইদিন রাতে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। একই দিন আটক করা হয় মুকুলের সহযোগী শিবপুর গ্রামের শফিকের ছেলে নাঈমকে। তাকেও ছেড়ে দেওয়া হয়।

যৌন নির্যাতনের বিচার না পেয়েই বর্ষা আত্মহত্যা করেছেন এমনটাই লিখেছেন চিঠিতে। নিচে বর্ষার লেখা চিঠিটি হুবহু তুলে ধরা হল।

‘প্রিয় মা-বাবা, প্রথমেই তোমাদের কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। আমি তোমাদের কাছ থেকে অনেক কিছু পেয়েছি, অনেক আদর অনেক ভালোবাসা। কিন্তু একটা মেয়ের কাছে তার মান-সম্মানটাই সবচেয়ে বড়। আমি আমার লজ্জার কথা সবাইকে বলতে বলতে নিজের কাছে অনেক ছোট হয়ে গেছি। প্রতিদিন পরপুরুষের কাছে এসব বলতে বলতে। আমি আর পারছি না। অপরাধীকে শাস্তি দিলেই তো আমার মান-সম্মান ফেরত পাবো না। আমাকে ক্ষমা করো।’

বর্ষার লেখা চিঠি

বর্ষার বাবা আবদুল মান্নান অভিযোগ করে বলেন, তার মেয়েকে সোনিয়ার মাধ্যমে অপহরণ করে শহরে নিয়ে যৌন নির্যাতন করে মুকুল। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করলেও পুলিশ ব্যবস্থা নেয়নি। আপসের কথা বলে আসামিদের আটকের পর ছেড়ে দিয়েছে। এতেই ক্ষোভে-অভিমানে তার মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। ঘটনার পর তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে বর্ষাকে আজ মরতে হতো না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মোহনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হোসেন তিনি বলেন, ‘মেয়েটি অসুস্থ থাকায় তাকে আমি নিজেই রাজশাহী মেডিক্যালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে গিয়েছিলাম। আমি তাকে বলেছিলাম আগে সে সুস্থ হোক পরে মামলার বিষয় দেখা যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাতে মামলার পর তিন জনকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আপাতত আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে ওই তিন জনের নামে মামলা হয়েছে।’


মন্তব্য