ক্রসফায়ারে নয়ন বন্ড, মুছা বন্ড কই?

ক্রসফায়ারে নয়ন বন্ড, মুছা বন্ড কই?
  © সংগৃহীত

বরগুনায় আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার অন্য সব আসামি গ্রেফতার কিংবা আদালতে আত্মসমর্পণ করলেও মুছা বন্ড এখনও অধরা। তাকে ছাড়াই মামলার রায় ঘোষণা করবেন আদালত। তার ফেসবুক আইডি খোলা থাকলেও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছেন আদালত।

বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ মো. আছাদুজ্জামান এ আদেশ দেন। ওই হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ ২৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছে। তার মধ্যে রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিসহ প্রাপ্তবয়স্ক ১০ জনের বিচার চলছে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে। বাকি অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ জনের বরগুনার শিশু আদালতে বিচার চলছে।

প্রাপ্তবয়স্ক আটজন কারাগারে থাকলেও মুছা বন্ড পলাতক রয়েছে। হাইকোর্টের আদেশে জামিনে রয়েছেন মিন্নি। প্রধান আসামি ‘নয়ন বন্ডের’ সহযোগী ‘মুছা ভাই’ হিসেবে পরিচিত ছিল। আসামিদের মধ্যে ‘নয়ন বন্ড’ ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মারা যায়। ফলে অভিযোগপত্রে তার নাম আসেনি। তবে ‘মুছা বন্ডকে’ ৫ নম্বর আসামি করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা উল্লেখ করে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ।

জানা গেছে, ‘মুছা বন্ডের’ বাড়ি জেলার বেতাগী উপজেলার সরিষামুড়ি কালিকাবাড়িতে। বাবা করাতকলের শ্রমিক আবুল কালাম বরগুনা শহরে ভাড়া বাসায় পরিবার নিয়ে থাকতেন। মা গৃহপরিচারিকা। কিশোর বয়সে মুছা ছাগল চুরি করে আলোচনায় আসেন।

২০১৫ সালে ছাগল চুরি করলে স্থানীয়রা তার মাথা ন্যাড়া করে গলায় জুতার মালা পরিয়ে শহর প্রদক্ষিণ করায়। পরে তাকে ঢাকায় পাঠিয়ে দেয়া হয়। কিছু দিন পর বরগুনায় ফিরে যায় সে। এরপর মোবাইল চুরি, ছিনতাই ও ছাত্রদের কাছ থেকে টাকা আদায় করত সে ও তার বন্ধুরা। ইতোমধ্যে মুছার বড় ভাই আল আমিন তাকে বিদ্যুতের মিস্ত্রির কাজে লাগায়।

একপর্যায়ে বন্ড গ্রুপ০০৭-এর প্রধান ‘নয়ন বন্ডের’ সঙ্গে তার পরিচয় হয়। তখন থেকেই তার উপাধি হয় ‘মুছা বন্ড’। তবে সবাই তাকে ‘মুছা ভাই’ বলে ডাকত। রিফাত হত্যার পর সপরিবারে নিরুদ্দেশ মুছার পরিবার। এলাকায় খোঁজ নিলেও কেউ তাদের সন্ধান দিতে পারেনি।

তবে ফেসবুকে ‘মুছা বন্ড’ নিয়মিত বলে জানা গেছে। গত ৪ সেপ্টেম্বর ‘মুছা বন্ড’ নামের আইডি থেকে ছবি পোস্ট করা হয়। ক্যাপশনে লেখা, ‘অন্ধকার আমার ভালো লাগে’। গত ২২ আগস্টও কয়েকজনের সঙ্গে তার তোলা ছবি পোস্ট করা হয়। এ ছাড়া ১৭ জুন এক ছবিতে তাকে ফুটওভার ব্রিজে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

‘মুছা বন্ড’ নামের ওই আইডির বন্ধু তালিকায় থাকা কয়েকজন আইডিটি ‘মুছা বন্ডের’ বলে নিশ্চিত করেছেন। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে কয়েকজন জানান, মেসেঞ্জারে তাদের চ্যাটিংও হয়েছে।

এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিরোজপুরের ইন্দুরকানি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে কর্মরত হুমায়ুন কবির গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মুছার বিরুদ্ধে জড়িত থাকার তথ্য মিলেছে। সে কারণে তাকে আসামি করা হয়েছে। তাকে গ্রেফতারে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়েছি। মুছা কোথায় আছে, কেউ সন্ধান দিতে পারেনি। মুছা ফেসবুক চালায় কিনা তদন্তের সময় সে তথ্য ছিল না।’

উল্লেখ্য, গত বছরের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনেপ্রকাশ্যে কুপিয়ে রিফাত শরীফকে গুরুতর আহত করে নয়ন বন্ড গ্যাংয়ের সদস্যরা। পরে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।


মন্তব্য