বিবাহবার্ষিকীর দিনে স্বামীর নির্যাতনে মারা গেলেন মিম

বিবাহবার্ষিকীর দিনে স্বামীর নির্যাতনে মারা গেলেন মিম
  © সংগৃহীত

দীর্ঘ ১৬ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে অবশেষে সবকিছুকে ব্যর্থ করে মৃত্যুর কাছে হেরে গেলেন তাসমিম মীম। যৌতুকের দাবিতে স্বামী এবং শাশুড়ির নির্যাতনে গত দুই সপ্তাহ ধরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের আইসিইউতে ছিলেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার সকালে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

জানা গেছে, চার বছর আগে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার কামিরহাটের মহিবুল আলমের মেয়ে তাসমিম মিম ও একই জেলার দৌলতপুর উপজেলার তারাগুনিয়া এলাকার জিন্না মোল্লার ছেলে জাজ আহমেদ বাপ্পি বিয়ে করে।গতকাল মঙ্গলবার ছিল দু’জনের চতুর্থ বিবাহ বার্ষিকী। বিয়ের পর স্বামী-সংসার নিয়ে মিমের দিনকাল বেশ ভালোই চলছিল।

কিন্তু হঠাৎ করেই এরই মধ্যে তার স্বামী বাপ্পি ও শাশুড়ি কোহিনুর যৌতুক হিসেবে মোটরসাইকেল দাবি করেন। এতে গৃহবধূ মিমকে উঠতে বসতেই প্রায় প্রতিদিনই নানা ধরনের কটু কথা শুনতে হত।

এক পর্যায়ে ১ সেপ্টেম্বর স্বামী ও শাশুড়ির নির্যাতনে গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ২ সেপ্টেম্বর তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এদিকে মিমকে নির্যাতনের বিষয়ে দৌলতপুর থানায় মিমের বাবা মহিবুল আলমের পক্ষে মিমের খালাতো ভাই অভিযোগপত্র দিতে গেলে অভিযোগ না নিয়ে ফেরত দেয়ার অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ওসি জহুরুল আলম বলেন, আমি মাত্র দুইদিন হলো এখানে যোগদান করেছি। ওই সময় অভিযোগের বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। পুলিশ অভিযোগ পেয়েও কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেনি এমন অভিযোগের সত্যতা পেলে সে বিষয়েও ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, মিমের পিতাকে এজাহার দিতে বলেছি, দাফন সম্পন্ন করে এজাহার নিয়ে আসার কথা। এজাহার পেলে মামলা রুজুসহ ন্যায় বিচারের জন্য আইনগত যা কিছু করার আছে সবই করবে পুলিশ।

 


মন্তব্য