দুই শিশুকে নির্মমভাবে পেটানো সেই শিক্ষক আটক

  © সংগৃহীত

ঢাকার সাভারে এক মাদ্রাসা শিক্ষকের হাতে দুই শিশু শিক্ষার্থী ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হওয়ার ঘটনার পর ওই শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় তাকে আটক করা হয় বলে জানা গেছে। আটক শিক্ষক ইব্রাহিম কুমিল্লা জেলার হোমনা থানার দুর্গাপুর গ্রামের আতাউর রহমানের ছেলে।

গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) আশুলিয়ার শ্রীপুরের মথনটেক এলাকার জাবালী নুর মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। নির্যাতিত এক শিক্ষার্থীর নাম শরিফুল ইসলাম (১৩)। এ সময় তার পাশে রাকিব হোসেন নামে আরেক শিক্ষার্থীকেও মধ্যযুগীয় কায়দায় বেঁধে রাখতে দেখা যায়। তাকেও মারধর করা হয়। সে টাঙ্গাইলে নিজ বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে ভাইরাল হলে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। জানা গেছে, মাদ্রাসাটি সিসি ক্যামেরা দিয়ে সুরক্ষিত। এরকম একটি সিসি ক্যামেরায় ধারণ করা তিনটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সারিবেঁধে কিছু শিক্ষার্থী সুর করে আরবি পড়ছে।

সামনে খালি গায়ে বসা এক শিক্ষক। তার একপাশে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় পড়ে আছে একটি শিশু। বোঝা যাচ্ছে তাকে মধ্যযুগীয় কায়দায় শাস্তি দিয়ে বেঁধে রেখেছেন শরিফুল ইসলাম নামের ওই শিক্ষক। তার সামনে আরেকটি শিশু বসা। তাকে কিছু জিজ্ঞেস করছেন তিনি। সম্ভবত পড়া।

শিশুটি ভুল করে। শিক্ষক ধরে নেন পড়া মুখস্থ হয়নি শিশুটির। এরপর তার দুই হাত নিজের শক্ত সবল এক হাতে টেনে ধরে অপর হাতে পাশের টেবিল থেকে বেত নিয়ে ইচ্ছেমতো শিশুটিকে মারধর করতে থাকেন তিনি। শিশুটি প্রচণ্ড ভয় পেয়ে নিষ্কৃতি পেতে ক্ষমা চায়। কিন্তু, থামেন না।

ওই স্থান থেকে পেটাতে পেটাতে ক্লাসরুমের মাঝখানে নিয়ে এসে হাত যতদূর ওঠে ততদূর এবং শরীরের সব শক্তি দিয়ে শিশু শিক্ষার্থীকে পেটাতে থাকেন। আর এ ঘটনায় ভয়ে শিউরে উঠে বাকি শিশুরা জোরে জোরে চিৎকারের মতো শব্দে পড়া আওড়াতে থাকে।

আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, রাকিব হোসেন নামে কালো পাঞ্জাবী পড়া শিক্ষার্থীর কাছ থেকেও পড়া জিজ্ঞেস করছেন তিনি। এসময় সে না পারায় রশি জাতীয় কিছু দিয়ে তার হাত দুটি বাঁধে ওই শিক্ষক। একটু পর তাকে বেত নিয়ে ইচ্ছেমতো মারধর করতে থাকেন তিনি। এসময় পা দিয়েও লাথি দিতে দেখা গেছে।

পড়ুন: মাদ্রাসায় দুই শিক্ষার্থীকে নির্মমভাবে পেটালো শিক্ষক, ভিডিও ভাইরাল


মন্তব্য