করোনা: ঘোরাফেরা করা লোকজনকে পেটালেন টাঙ্গাইলের যুবলীগ নেতারা

  © সংগৃহীত

করোনাভাইরাস সংক্রমণ মোকাবিলায় টাঙ্গাইলে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকেল চারটা থেকে লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। সেই সাথে পৌর এলাকায় অকারণে ঘোরাফেরা করা লোকজনের ওপর কঠোর হতে দেখা যায় বেশ কয়েকজন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকে। রাস্তা ঘাট ও বাজারে ঘোরাফেরা করা কিংবা জটলা পাকানো অনেককেই লাঠিপেটা ও কান ধরে উঠবস করান তারা।

এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। যেখানে টাঙ্গাইল পৌরসভার কাউন্সিলর আমিনুর রহমান আমিনসহ কয়েকজনকে লাঠি হাতে পেটাতে দেখা যায়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পৌরসভার কাউন্সিলর আমিনুর রহমান বলেন, বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাস মহামারি আকার ধারণ করছে। কিন্তু টাঙ্গাইলে কেউ কেউ প্রশাসনের কোনো নির্দেশনাই মানছে না। মানুষকে কোনোভাবেই ঘরমুখী করা যাচ্ছে না। অপ্রয়োজনের ঘোরাফেরা করা মানুষ ভয়ভীতি দেখানোর জন্যই আমরা কঠোর হয়েছি। এসময় তার সঙ্গে পৌরসভার প্যানেল মেয়র সাইফুজ্জামান খান সোহেল, চেম্বার অব কমার্স টাঙ্গাইল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক খান আহমেদ শুভ, জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি ফারুক হোসেন মানিকসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে টাঙ্গাইল সার্কিট হাউজে জেলা প্রশাসনের এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জেলাকে লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। শহরে কোনো প্রকার ইজিবাইক, সিএনজি চালিত অটোরিকশা, ভ্যান বা সকল প্রকার যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়। তবে ওষুধ, খাদ্য পণ্যবাহী যানবাহন, পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মী, সংবাদকর্মীরা এ সিদ্ধান্তের আওতার বাইরে থাকবে। সভা শেষে সেনা সদস্যদের সাথে নিয়ে জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলাম শহরের ব্যস্ততম পার্কবাজার পরিদর্শন করেন এবং বাজারে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে কাঁচা বাজার পার্শ্ববর্তী ঈদগাহ ময়দানে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এরমধ্যেই টাঙ্গাইল পৌরসভা, টাঙ্গাইল চেম্বার অব কমার্স, শহর আওয়ামী লীগ ও জেলা যুবলীগের পক্ষ থেকে শহরে ঝটিকা অভিযান চালানো হয়। এসময় অকারণে ঘরের বাইরে বের হওয়া ব্যক্তিদের লাঠি দিয়ে পেটানো ও কান ধরে উঠবস করানো হয়।

সাধারণ মানুষকে লাঠিপেটার বিষয়ে জানতে টাঙ্গাইল সদর থানার ওসি মোশরফ হোসেন বলেন, আমরা ফেসবুকে এই ঘটনা দেখেছি। এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 


মন্তব্য

এ বিভাগের আরো সংবাদ