আবরারকে নির্যাতন শুরু হয় রাত ১০টায়, হত্যাকারীরা অভ্যস্ত ছিল

  © সংগৃহীত

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরারকে হত্যার বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেছেন, ‘যারা তাকে হত্যা করেছে তারা উচ্ছৃঙ্খল আচরণে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিল। কেউ তাদের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করলে, সালাম না দিলে কিংবা তাদের সামনে হেসে দিলে তারা নির্যাতন করত।’

আজ বুধবার (১৩ নভেম্বর) দুপুরে  রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি গোয়েন্দা শাখার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান মনিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, কোনো একক কারণে আবরারকে হত্যা করা হয়নি। সে শিবির করে কি না, হত্যার পেছনে এটি অন্যতম কারণ।

মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘তদন্তে জানতে পেরেছি রাত ১০টার পর থেকে আবরারের ওপর নির্যাতন শুরু হয়। ২ টা ৫০ এর দিকে ডাক্তার তাকে দেখে মৃত ঘোষণা করে। অনেক দীর্ঘ সময় ধরে তাকে পেটানো হচ্ছিল।’

তিনি বলেন, ‘অভিযুক্তরা র‍্যাগিংয়ের নামে নতুনদের আতঙ্কিত রাখতে এসব কাজ করে। আমরা আগে কোনো অভিযোগ পাইনি এসব বিষয়ে। তবে তদন্তে একজন সাক্ষী বলেছেন, সে একজনকে সালাম দেয়নি বলে তাকে পেটানো হয়েছে। র‍্যাগিংয়ের নামে উচ্ছৃঙ্খল কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে আবরার হত্যাকাণ্ডটি সংগঠিত হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘হল প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আগে থেকে মনিটরিং করলে এমন ঘটনা নাও ঘটতে পারত। তাদেরই মনিটর করার কথা এটা। আবরারকে হয়তো একটু আগে হাসপাতালে নিয়ে গেলে এমন নৃশংস পরিণতি হতো না।’

এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘আবরারের হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রে তদন্ত কর্মকর্তা ছিল, তদন্ত সহায়ক দল ছিল, সিসিটিভি ফুটেজ, পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য প্রমাণ, ফেসবুক মেসেঞ্জার গ্রুপের তথ্য রয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যের বিশ্লেষণ, পাশাপাশি ৮ জন আসামির বক্তব্য হত্যাকাণ্ডের অনেক বিষয় প্রমাণ করে। যদিও এ ধরনের ঘটনায় চাক্ষুষ সাক্ষী থাকলেও সাক্ষ্য দিতে এগিয়ে আসে না। আমরা যেভাবে চার্জশিট প্রস্তুত করেছি আশা করছি সবার সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত হবে।’

মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘চার্জশিট আদালতে পাঠানো হয়েছে। তদন্তে আমরা জানতে পেরেছি, আবরার হত্যায় সরাসরি অংশে নেন ১১ জন। বাকি ১৪ জন বিভিন্ন পর্যায়ে জড়িত রয়েছে।’

চার্জশিটভুক্ত আসামি যারা: মেহেদী হাসান রাসেল, মুহতাসিম ফুয়াদ, অনিক সরকার, মেহেদী হাসান রবিন, ইফতি মোশররফ সকাল, মনিরুজ্জামান মনির, মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, অমিত সাহা, মাজেদুল ইসলাম, মো. মুজাহিদুল, মো. তানভীর আহমেদ, হোসেন মোহাম্মদ তোহা, মো. জিসান, মো. আকাশ, শামীম বিল্লাহ, মো. সাদাত, মো. তানিম, মো. মোর্শেদ, মোয়াজ আবু হুরায়রা, মুনতাসির আল জেমি, মিজানুর রহমান, শামসুল আরেফিন রাফাত, ইশতিয়াক আহমেদ মুন্না, এস এম মাহমুদ সেতু প্রমুখ। তাদের মধ্যে মুন্না, অমিত সাহা, মিজান, রাফাত ও সেতুর নাম এজাহারে ছিল না। আসামিদের মধ্যে রাসেল ছিলেন বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক, ফুয়াদ সহসভাপতি, অনিক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক, রবিন সাংগঠনিক সম্পাদক, সকাল উপসমাজসেবা সম্পাদক, মনির সাহিত্য সম্পাদক, জিয়ন ক্রীড়া সম্পাদক, রাফিদ উপদপ্তর সম্পাদক, অমিত সাহা উপ-আইনবিষয়ক সম্পাদক এবং তানিম, মুজাহিদুর ও জেমি সদস্য। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, মামলার এজাহারভুক্ত তিন আসামি মো. জিসান, মোর্শেদ ও এহতেশামুল তানিম এখনো পলাতক। এ মামলায় এজাহারভুক্ত আট আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা হলেন—নাজমুস সাদাত, ইফতি মোশাররফ, মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, অনিক সরকার, মুজাহিদুর রহমান, মেহেদি হাসান রবিন, তাবাখখারুল ইসলাম তানভীর ও মনিরুজ্জামান মনির।


মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ