ঢাবির সাবেক দুই ছাত্রলীগ নেতা রিমান্ডে

অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তারকৃত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। আজ বুধবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত এ আদেশ দেন। 

রিমান্ডপ্রাপ্ত দুই শিক্ষার্থী হলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক ক্রীড়াবিষয়ক উপসম্পাদক হাসিবুর রহমান ও  সাবেক অর্থবিষয়ক উপসম্পাদক আবু বকর।

মঙ্গলবার হাসিবুর ও বকরকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের একটি কক্ষ থেকে অস্ত্র, মাদকসহ গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ঘটনায় এই দুই আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন এবং অস্ত্র আইনে শাহবাগ থানায় মামলা হয়।

শাহবাগ থানা পুলিশ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই দুই ছাত্রকে আজ আদালতে হাজির করে সাত দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে। আদালতকে পুলিশ প্রতিবেদন দিয়ে বলছে, পুলিশ জানতে পারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মোহাম্মদ মহসিন হলের ১২১ নম্বর কক্ষে অবৈধ মাদক ও অস্ত্র কেনাবেচা চলছে। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হাসিবুর রহমান এবং আবু বক্করকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের সহযোগী ইমরান ফরহাদ পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

আসামি হাসিবুরের কক্ষ থেকে একটি বিদেশী পিস্তল ও ৪ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। অপর আসামি আবু বক্কর এর কাছ থেকে ৯ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়। পাওয়া যায় আরো এক বোতল ফেনসিডিল।

এছাড়া আসামিদের কাছ থেকে লোহার পাইপ, একটি চাইনিজ কুড়াল, দুইটা হাতুড়ি, তিনটা চাকু, চারটি মোবাইল উদ্ধার করা হয়। আদালতকে পুলিশ আরো প্রতিবেদন দিয়ে বলেছে, এই আসামিরা সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য। আসামিরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মাদক সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত। আসামিরা অস্ত্র দিয়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। এই ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত আছে তা খুঁজে বের করার জন্য আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি।

তবে এই দুই আসামির পক্ষে তাদের আইনজীবীরা আদালতকে বলেন, এই আসামিরা ষড়যন্ত্রের শিকার। অপরাধমূলক কোন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নয়। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সাবেক এই দুই নেতাকে দুই দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দেন।

হল সূত্র বলছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মুহসীন হলে এক ছাত্রলীগ নেতার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে হুমকি দেন হাসিব ও বকর। এর দুই ঘণ্টা পর তাঁদের কক্ষে (১২১ নম্বর) অভিযান চালায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ কে এম গোলাম রাব্বানীর নেতৃত্বে এই অভিযানে তাঁর সঙ্গে ছিলেন দুজন সহকারী প্রক্টর।


মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ