সন্ত্রাস-ভূমিদস্যুতা করেও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায় আজিজুল-জুলেখা গং

খুলনা জেলার দক্ষিণাঞ্চল কয়রা উপজেলার পেশাদার ভূমিদস্যু এবং সন্ত্রাস সৃষ্টিকারী আজিজুল-জুলেখা গঙদের বিরুদ্ধে কয়রা থানায় মামলা রেকর্ড হওয়ার ৪র্থ দিনেও আসামিদের গ্রেফতার করতে পারেনি কয়রা থানার পুলিশ প্রশাসন।

গত মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টায় সুপরিকল্পিতভাবে আজিজুল-জুলেখা গং ও তাদের ভাড়াটে সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে পাশ্ববর্তী প্রতিবেশী আনারুল গাজীকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো রামদা, চাইনিজ কুড়াল, চাপাতি, লোহার- রড, শাবল, হাতুড়ি এবং অন্যান্য দেশীয় ভারি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আক্রমণ করায় আনারুল গাজীসহ তার ছোট ভাই আমিরুল এবং আব্দুলাহ মারাত্মকভাবে আহত- জখক হয়ে আনারুল গাজী ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে এবং অন্য দুই জন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত শনিবার (১০ আগস্ট) কয়রা থানায় বাদী হয়ে জখমীদের পক্ষে মামলা করেন মোঃ মনিরুল ইসলাম গাজী এবং মামলা নং ১৬।

কয়রা থানায় নব নিযুক্ত অফিসার ইনচার্জ মো. রবিউল হোসেন মামলাটি রুজু করেন। কিন্তু মামলা রেকর্ড হওয়ার ৪র্থ দিনেও কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। অথচ দিবালোকে আসামিরা প্রকাশে চলাফেরা করছে এমনটি জানিয়েছে এলাকাবাসী।

সরজমিনে স্থানীয় এলাকাবাসীর দেওয়া তথ্য এবং মামলার এজাহার থেকে প্রাপ্ত বিবরণী থেকে জানা যায়, কয়রা উপজেলার ১নং কয়রার পায়রা তলার আইট গ্রামের বাসিন্দা আনছার গাজীর ছেলে-মেয়ে আজিজুল-জুলেখা গং তাদের বাহিনী দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কয়রা উপজেলায় সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়ে আসছে। তাদের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড এবং ভূমিদস্যুতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এবং জীবন নাশের মুখোমুখি হচ্ছে সাধারণ মানুষ।আজিজুল-জুলেখা গঙদের প্রতিবেশী আনারুল গাজী। অবৈধভাবে আনারুলের ১৪ শতক জমির দখলদারিত্ব বজায় রাখতে আজিজুল-জুলেখা গং আনারুলকে বিভিন্ন সময়ে জীবন নাশের হুমকি দিয়ে আসছে।

আনারুল গাজী জমির উপযুক্ত দলিলপত্রসহ ও কয়রা উপজেলা প্রশাসন এবং খুলনা-৬ আসনের এমপি নির্দেশে নিজ বসতবাড়ির সীমানায় দেয়াল নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু নিজের বাড়ির সীমানায় দেয়াল নির্মাণের আগের রাতে আজিজুল-জুলেখা গং ঘটায় এক নারকীয় ঘটনা।

মামলার এজাহার থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে, গত ৬ আগস্ট রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টায় আজিজুল গাজী(৪৭), জুলেখা খাতুন (৪০), মামুন গাজী (২২), সিরাজুল বৈদ্য (৪৫), ইউনুছ গাজী (৫০), জাহিদুল ইসলাম ওরফে মিলা বৈদ্য (২০) সহ আরো ৯-১০ জন ভাড়াটে সন্ত্রাসী দেশীয় ভারি অস্ত্রশস্ত্র এবং ধারালো রামদা, চাইনিজ কুড়াল, চাপাতি, লোহার- রড, শাবল, হাতুড়ি এবং লাঠিসোটা নিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে বসতবাড়ির ঘরে ঘুমন্ত অবস্থায় আনারুল গাজীর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

আনারুল গাজীকে ধরে মুখ বেঁধে ফাঁকা বিলের মাঝখানে নিয়ে আজিজুল, জুলেখা, মিলা, মামুন, সিরাজুলসহ অন্যান্যরা ধারালো রামদা, চাইনিজ কুড়াল, চাপাতি দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। কুপিয়ে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেওয়া হয় আনারুল গাজীর দুই পা-হাত এবং মাথাসহ শরীরের সমস্ত অংশ।

এসময় জখমীর স্ত্রীর চিৎকারে জখমীর ছোট ভাই আমিরুল গাজী ভাইকে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসলে আজিজুল, জুলেখা, মিলা, মামুন, সিরাজুল তাদের হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তার মাথা, হাত, পা মারাত্মকভাবে জখম করে দেয়। সাথে সাথে জাহিদুল ইসলাম মিলা, মামুন ও ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা আনারুলের নিকট আত্মীয় আব্দুলার মাথায় লোহার রড দিয়ে আঘাত করে এবং বাম হাতের হাড় ভেঙে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয়।

পরে এলাকাবাসী গভীর রাতে আজিজুল-জুলেখা গঙদের হাত থেকে তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন।কিন্তু আনারুল গাজীর অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় খুলনা মেডিকেল থেকে তাকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন খুমেকের চিকিৎসকরা।

এদিকে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী মো: আজিদ মুন্সি বলেন, আজিজুল-জুলেখা গং বাহিনী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ভূমি দখল এবং সন্ত্রাস সৃষ্টির মাধ্যমে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। গত ২০১০ সালে এই দস্যু বাহিনী আমারসহ পরিবারকে মারাত্মকভাবে মারপিট করে।

এলাকার অপর এক ভুক্তভোগী গোলাম মোস্তফা গাজী জানায়, আজিজুল-জুলেখা গং এতোটাই বেপরোয়া যে তাদের নির্যাতন এবং সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে আমরা অতিষ্ট। এই বাহিনী গত ২০০৯ সালে আমাকেসহ আমার ভাইদেরকে মারাত্মকভাবে মারপিট করে খুন-জখম করে।

আজিজুল-জুলেখা গঙদের দুলা ভাই মজিদ গাজী বলেন, এই ভূমিদস্যু বাহিনী আমাকে জমি লিখে দেওয়ার নাম করে অনেক টাকা আত্মসাৎ করে আজ আমাকে সর্বশান্ত করে ফেলেছে।

উল্লেখ্য, আজিজুল-জুলেখা গং বাহিনী খাল দখল, টেন্ডারবাজী, ভূমি দখলসহ দীর্ঘদিন ধরে নানা অপকর্ম চালিয়ে আসছে। বিগত দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে কয়রা থানায় তাদের নামে একাধিক মামলা হলেও কিছু অসৎ ব্যক্তির সহায়তায় সেসব মামলা থেকে খালাস পেয়ে দিনের পর দিন এই বাহিনী আরো বেশি হিংস্র এবং বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

কয়রা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ রবিউল হোসেন বলেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। অবৈধ এবং বেআইনি কাজ করলে যে কোন ব্যক্তিকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে।

তিনি আরো বলেন, ১৬/১৯ মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এসআই আসাদুল ইসলামকে। আসামিদের গ্রেফতার করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে৷

মামলার বিবরণী

 


মন্তব্য