চাপে পড়ে সংবাদ সম্মেলনে রিফাতের বাবা!

ছেলে রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের প্রধান সাক্ষী ও নিহত রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে গ্রেফতার দাবি জানিয়েছে বাবা দুলাল শরীফ। সংবাদ সম্মেলন করে করে বলেছেন, মিন্নিকে গ্রেফতার করলেই সব তথ্য বেরিয়ে আসবে। গণমাধ্যমের তথ্য,  মিন্নির প্রতারণা ও রিফাত বাঁচাতে গাফিলতি এটাই প্রমাণ করে- সে পুরো ঘটনার জন্য দায়ী।

এদিকে অভিযোগ উঠেছে, চাপে পড়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন রিফাতের বাবা। একটি সূত্রের তথ্য, সংবাদ সম্মেলন চলাকালীন সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর ছেলে সুনাম দেবনাথ বরগুনা প্রেস ক্লাবে উপস্থিত ছিলেন। ওই সময় তিনি বারবার প্রেস ক্লাবের ভেতরে-বাইরে আসা-যাওয়া করছিলেন। সুমন দেবনাথের চাপেই মিন্নির বাবা ওই সংবাদ সম্মেলন করেছেন কি-না- এমন প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ।

সূত্রটির দাবি, বরগুনা-১ এর সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। তাঁর ছেলে সুনাম দেবনাথ জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক। জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেলুয়ার হােসেন। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। সবাই আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা হলেও শম্ভু ও দেলােয়ার পরিবারের মধ্যে সম্পর্ক সাপে নেউলে। এ কারণেই তারা রিফাত শরীফের খুনিদের পক্ষ নিয়েছে দুটি। যে কারণে এখনো ঘাতকরা ধরাছোঁয়ার বাইরে নেপথ্যের খলনায়করা।

সংবাদ সম্মেলনের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মিন্নিও মুখ খুলেছেন চাপ তথা প্ররোচনার বিষয়টি নিয়ে। বলেছেন, ‘হত্যাকাণ্ডের পরপর আমার শ্বশুর যে মামলা করেছেন, সেই মামলায় আমাকে এক নম্বর সাক্ষী করেছেন। এত দিন পর কেন আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ? মামলায় প্রথমেই কেন আমাকে আসামি করেননি? আমার ধারণা, উনি কারো দ্বারা প্রভাবিত হয়ে বা কাউকে বাঁচানোর জন্য এসব কথা বলছেন।’

অন্যদিকে নয়ন বন্ডের বাড়িতে যাওয়া প্রসঙ্গে মিন্নি দাবি করেন, তিনি নয়ন বন্ডের বাসায় কখনো যাননি। নয়নের মা কেন এসব কথা বলছেন, কার প্ররোচনায় এমনটা বলছেন- সেটাও খতিয়ে দেখা দরকার আছে। এর আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নয়নের মা জানান, মিন্নি কলেজ ফাঁকি দিয়ে নিয়মিত নয়নের সাথে দেখা করতে আমাদের বাড়ি আসত। শুধু তাই নয়, হত্যার আগেরদিনও সে (মিন্নি) এসেছিল বলে দাবি করেন নয়নের মা।

অন্যদিকে মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হক কিশোর বলেন, ‘আমার বেয়াই সন্তানের হত্যাকাণ্ডের পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। তিনি একেক সময় একেক কথা বলছেন। আজ যেটা বলছেন, কালই হয়তো সেটা থেকে ফিরে আসবেন।’

সংবাদ সম্মেলনের উপস্থিত একাধিকের তথ্য, পুরো সংবাদ সম্মেলনে রিফাতের বাবা নিজের কোনো যুক্তি তুলে ধরেননি, যা বলেছেন সব নয়ন বন্ডের মায়ের বক্তব্য ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে। রিফাতকে হত্যার পরিকল্পনায় মিন্নিও যে জড়িত ছিলেন, এমন তথ্য আগে থেকে আঁচ করতে পেরেছিলেন কিনা- এ বিষয়েও খোলাসা কোনো কথা বলেননি রিফাতের বাবা। শুধু বলেছেন, নয়ন বন্ডের মা একাধিক সংবাদমাধ্যমকে মিন্নির ব্যাপারে অনেক তথ্য দিয়ে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। মিন্নির আগের বিয়ের কথা বিষয়টি পরিষ্কারভাবে বলে দিয়েছেন নয়নের মা। এ থেকেই বোঝা যায় মিন্নি ভিলেন।

তিনি বলেন, মিডিয়ায় প্রকাশিত নতুন ভিডিওতে বিষয়টি পরিষ্কার দেখা যায়। আমার ছেলেকে রিফাত ফরাজী ও অন্যরা যখন মারধর করতে করতে নিয়ে যায় তখন স্বাভাবিকভাবে পেছনে পেছনে হাঁটছিল মিন্নি। যা কোনোভাবেই আমি নিতে পারিনি। এটি দেখে পরিষ্কার বুঝা যায় আমার ছেলে হত্যার পেছনে মিন্নির হাত রয়েছে।

এর আগে গণমাধ্যমকর্মীদের নয়ন বন্ডের মা শাহিদা বেগম জানান, কলেজ ফাঁকি দিয়ে নিয়মিত নয়নদের বাড়ি যেত রিফাতের স্ত্রী আয়শা আক্তার মিন্নি। হত্যাকাণ্ডের আগের দিনও মিন্নি প্রধান আসামী পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত সাব্বির আহমেদ নয়ন ওরফে নয়ন বন্ডের বাসায় গিয়েছিলেন।

নয়ন বন্ডের মা জানান, ‘রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে ২৬ জুন (বুধবার)। এর আগের দিন মঙ্গলবারও মিন্নি আমাদের বাসায় এসে নয়নের সঙ্গে দেখা করে। আমার ছেলে তো মারাই গেছে। আমার তো আর মিথ্যা বলার কিছু নেই। মিন্নি যে মঙ্গলবারও আমাদের বাসায় গিয়েছিল তা আমার প্রতিবেশীরাও দেখেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘রিফাত শরীফের সঙ্গে বিয়ে হওয়ার পরও মিন্নি নিয়মিত আমাদের বাসায় এসে নয়নের সঙ্গে দেখা করত। মোটরসাইকেলে মিন্নিকে রিফাত শরীফ কলেজে নামিয়ে দিয়ে চলে যেত। এরপর মিন্নি আমাদের বাসায় চলে আসত। আবার কলেজের ক্লাস শেষ হওয়ার আগ মুহূর্তে মিন্নি আমাদের বাসা থেকে বের হয়ে কলেজে যেত।’


মন্তব্য