এনবিআরে ৯ হাজার জনবল নিয়োগে তোড়জোড়, বাড়বে পদ

  © সংগৃহীত

দেশের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আয়ের প্রায় ৮৫ শতাংশ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে আহরিত হয়। এমডিজি ও এসডিজির লক্ষ্যমাত্রায় অভ্যন্তরীণ সম্পদ থেকে রাজস্ব আহরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিবছর বাজেটের আকার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রাও বাড়ানো হয়; কিন্তু সে তুলনায় বাড়েনি জনবল।

তবে প্রধানমন্ত্রীর নিদের্শে জনবল কাঠামো দ্বিগুণ করা হয়েছে। বর্তমানে সে অনুযায়ী এনবিআরের আওতাধীন অনুমোদিত জনবলের সংখ্যা ২২ হাজার ১২৩। এর মধ্যে আট হাজার ৫৪১টি পদ শূন্য। এতে ব্যাহত হচ্ছে রাজস্ব আদায় কার্যক্রম। এনবিআর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

অবশ্য শূন্য পদ পূরণ হলেও এনবিআর কাঙিক্ষত রাজস্ব আহরণ করতে পারবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সেজন্য রাজস্ব আদায় কার্যক্রম গতিশীল করতে কাস্টমস, ভ্যাট ও আয়করের অফিস বাড়ানোর পাশাপাশি জনবল বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

এনবিআর ও এনবিআরের আওতাধীন কাস্টমস, ভ্যাট ও আয়কর বিভাগে অনুমোদিত পদসংখ্যা ২২ হাজার ১২৩। জনবল রয়েছে ১৩ হাজার ৫৮২। আর শূন্য পদের মধ্যে প্রথম শ্রেণির ৫০৮টি, দ্বিতীয় শ্রেণির দুই হাজার ১৮১টি, তৃতীয় শ্রেণির চার হাজার ৮৭১টি ও চতুর্থ শ্রেণির রয়েছে ৯৮১টি।

ট্যাক্সেস আপিলাত ট্রাইব্যুনালে অনুমোদিত ১৫২ পদের বিপরীতে ৪৭টি শূন্য পদ রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম শ্রেণির তিনটি, তৃতীয় শ্রেণির ২৬টি ও চতুর্থ শ্রেণির ১৮টি। এর বাইরে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট আপিলাত ট্রাইব্যুনালে ৬৫টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে শূন্য রয়েছে ২২টি। দ্বিতীয় শ্রেণির একটি, তৃতীয় শ্রেণির ১৮টি ও চতুর্থ শ্রেণির রয়েছে তিনটি।

জানা গেছে, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির শূন্য পদে জরুরি ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে পিএসসিকে অনুরোধ করেছে এনবিআর। এছাড়া তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির শূন্য পদ পূরণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বিশেষ করে কাস্টম হাউস, ভ্যাট কমিশনারেট ও কর অঞ্চল পৃথকভাবে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির শূন্য পদে নিয়োগের জন্য বিভিন্ন সময় পৃথকভাবে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে।

কোথাও কোথাও প্রবেশপত্র ইস্যু ও পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। এনবিআর থেকে শুরু করে মাঠ অফিসগুলো প্রতিনিয়তই জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে।

সূত্র জানায়, জনবল নিয়োগে অনেক সময় লাগে। ফলে মাঠ অফিসগুলো প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে কাঙিক্ষত রাজস্ব আদায় করতে পারে না। জনবলের আপৎকালীন ঘাটতি মেটাতে অর্থমন্ত্রী আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে জনবল নিয়োগে এনবিআরকে নির্দেশ দিয়েছে।

এজন্য ‘রাজস্ব সহযোগী’ পদ সৃষ্টির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাদের কাজ হবে, এনবিআরের আওতাধীন কাস্টমস, ভ্যাট ও আয়কর বিভাগের মাঠ পর্যায়ের দপ্তরগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রাজস্ব আদায় কার্যক্রমে সহায়তা করা।

নির্দেশনা অনুযায়ী, এনবিআর এরই মধ্যে আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে ৫০০ ‘রাজস্ব সহযোগী’ পদে নিয়োগের জন্য দরপত্র আহবান করেছে। জনবল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান থেকে যাচাই শেষে ৫০০ জনবল নেওয়া হবে। তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক। দ্রুত এ জনবল নিয়োগ হবে।

অপরদিকে দেশের মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ছে, হচ্ছে উন্নয়ন। ফলে মানুষের কর প্রদান ক্ষমতাও বাড়ছে। কিন্তু রাজস্ব আহরণে এনবিআরের মাঠ অফিসের সংখ্যা ও সক্ষমতা বাড়ছে না। রাজস্ব আদায় কার্যক্রম গতিশীল করতে মাঠ অফিসের সংখ্যা ও জনবল বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আয়কর বিভাগের কর অঞ্চল ও জনবল বাড়ানোর প্রস্তাবে এরই মধ্যে অর্থমন্ত্রী অনুমোদন দিয়েছেন। কাস্টমস ও ভ্যাটের অফিস এবং জনবল বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। মাঠ অফিস ও জনবল বাড়লে রাজস্ব আয় কয়েকগুণ বেড়ে যাবে।

সূত্র জানায়, আয়কর ও কাস্টমস বিভাগ থেকে দুটি প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এতে নতুন আয়কর অফিস, ভ্যাট কমিশনারেট, কাস্টম হাউস, বন্ড কমিশনারেট ও অন্যান্য কয়েকটি দপ্তর গঠন-সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।

এর মধ্যে ৪৫টি নতুন কর অঞ্চল গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে ৩১টি কর অঞ্চল, সাতটি আপিল অঞ্চল, কর পরিদর্শন পরিদপ্তর ও বিসিএস কর একাডেমি রয়েছে।

কর বিভাগের সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে নতুন ৩২টি কর অঞ্চল, ছয়টি আপিল অঞ্চল ও সাতটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া শতাধিক উপজেলায় কর অফিস স্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে আয়কর বিভাগে প্রায় সাড়ে আট হাজার জনবল কর্মরত আছে। নতুন কাঠামোতে আরও প্রায় ১৬ হাজার জনবল নিয়োগের প্রস্তাব করা হয়েছে।

অপরদিকে নতুন চারটি কাস্টম হাউস, পাঁচটি ভ্যাট কমিশনারেট, দুটি বন্ড কমিশনারেট ও অন্যান্য ৯টি দপ্তরসহ ১৯টি দপ্তর স্থাপন এবং ১৭ হাজার ৩১৪ কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে। বর্তমানে ছয়টি কাস্টম হাউস রয়েছে। বর্তমানে এলটিইউসহ ১২টি ভ্যাট কমিশনারেট রয়েছে। নতুন করে গাজীপুর, ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ, কক্সবাজার ও বরিশাল ভ্যাট কমিশনারেট স্থাপনের প্রস্তাব করা হয়।

ঢাকা কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটকে ভেঙে বন্ড কমিশনারেট (উত্তর) ও বন্ড কমিশনারেট (দক্ষিণ) করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া কাস্টমস রিস্ক ম্যানেজমেন্ট অধিদপ্তর, ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, ঢাকা কাস্টমস অ্যান্ড ভ্যাট কেন্দ্রীয় রাসায়নিক পরীক্ষাগার, ঢাকা কাস্টমস অ্যান্ড ভ্যাট রেভিনিউ ফোর্স অধিদপ্তর, ঢাকা উন্নয়ন পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর (কাস্টমস ও ভ্যাট), মানি লন্ডারিং ও চোরাচালান প্রতিরোধ অধিদপ্তর, ঢাকা, ইকোনমিক জোন কমিশনারেট, ঢাকা, ইকোনমিক জোন কমিশনারেট, চট্টগ্রাম এবং বৈদেশিক মিশন নামে নতুন ৯টি অধিদপ্তর স্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া ১৭ হাজার ৩১৪ নতুন জনবল নিয়োগের প্রস্তাব করা হয়েছে।

কৃতজ্ঞতা: দৈনিক শেয়ার বিজ

প্রতিবেদক: রহমত রহমান


মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ