৩৫ প্রত্যাশীরা আন্দোলন করুক, অন্তত রাজনীতি শিখবে: প্রধানমন্ত্রী

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫ করার যৌক্তিকতা নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘১৬ বছরে এএসসি পাস, চার বছরে অনার্স এবং এক বছরে মাস্টার্স। তারপরও এক-দুই বছর দেরিও হয়, তাহলে ২৫ থেকে ২৬ বছরে পড়া শেষ হয়। এখন এই অবস্থায় চাকরিতে প্রবেশের বসয় ৩৫ চাই আন্দোলনের জবাব কী হবে আপনারা ঠিক করেন, আমি সুযোগ দিচ্ছি।’ এ সময় তিনি বিসিএস পরীক্ষার কয়েকটি ফলাফল তুলে ধরে ৩৫ করার অযৌক্তিকতা তুলে ধরেন।

সোমবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে সদ্য সমাপ্ত চীন সফর নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।

তিনি বলেন, যদি চাকরিতে ৩৫ বছর করা হয়, তবে তো ছেলে-মেয়ে, ঘর-সংসার সামলে চাকরির পরীক্ষা দিতে হবে। কাজ করার তো সময় থাকে। ৩৫ দাবি যদি তোলার জন্যই তোলা হয়, তবে কিছু বলার নেই। হতে পারে তারা এই আন্দোলন তথা দাবির জন্য আলাদা সুবিধা বা অনুপ্রেরণা পাচ্ছেন। কিন্তু ৩৫ করলে অবস্থাটা কী হবে? ৩৫ বছরে চাকরি পেলে ট্রেনিং করতে করতে ৩৭ বছর। তাহলে একটা সরকার কাদের দিয়ে দেশ চালাবে? আমরা সব সময় বলি- যুবক ও মেধাবীদের দেশ চলবে। এটা স্বাভাবিক নিয়ম। ৩৫ করলে অবস্থাটা কী হবে?

শেখ হাসিনা আরো বলেন, আন্দোলন করলে করুক, সমস্যা নেই। আন্দোলন করলে অন্তত রাজনীতি শিখবে। কিন্তু কারো প্ররোচনায় পড়ে যদি আন্দোলন করে, তবেই বুঝতেই পাচ্ছেন, অবস্থাটা কী হবে? এ সময় উপস্থিত সাংবাদিকরা হেসে উঠেন।

৬১ টাকায় গ্যাস কিনে ৯.৮ টাকায় দিচ্ছি
গ্যাসের আবাসিক সংযোগের বিল বেড়েছে ১৭৫ টাকা। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন করেন এক সাংবাদিক। উত্তরে তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি চাইলে এলএনজি আমদানি করতেই হবে। বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পায়ন আর প্রবৃদ্ধির জন্য এটা জরুরি। আর অর্থনৈতিক উন্নতি চাইলে মেনে নিতে হবে। বিদেশেও যারা এলএনজি আমদানি বা গ্যাস আমদানি করে। এটা তারা মেনে নেয়। প্রতি ঘনমিটার এলএনজির আমদানি খরচ ৬১.১২ টাকা এবং দাম বাড়ানোর পরও সরকার তা দিচ্ছে ৯.৮ টাকায়। তার পরেও আন্দোলন!

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ভারতে রান্নার গ্যাসের দাম কমানোর বিষয়টি যারা তুলছেন, তারা যেন সে দেশে গ্যাসের দামের বিষয়টি বিবেচনায় আনেন।

দাম বাড়ানোর পরও ১০ হাজার কোটি টাকার ওপরে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে বলেও জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে। শেখ হাসিনা বলেন, ‘তাহলে আন্দোলন যখন করেছ, এক কাজ করি, যে দামে কিনব, সে দামে বেচব। ৬১ টাকায় নেব। তাহলে আমার কোনো ভর্তুকি দিতে হচ্ছে না।’

এলএনজি আমদানির বিকল্প নেই জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা প্রবৃদ্ধি ৮.২ শতাংশ করতে চাই। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ দিতে চাই, শিল্পায়ন করতে চাই।’ বামদের হরতাল ও তাতে বিএনপির সমর্থন নিয়ে কটাক্ষও করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘বাম আর ডান মিলে গেছে। এক সেঙ্গ এই তো, খুব ভালো।’ পরে শেখ হাসিনা আবার বলেন, ‘বহু দিন পরে হরতাল পেলাম, পরিবেশের জন্য ভালো।’

ভারতে গ্যাসের দাম কত?
গ্যাস আমদানির ওপর সব ধরনের কর মওকুফ করে দেওয়ার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। সেই সঙ্গে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের গ্যাসের দামের তুলনাও তিনি তুলে ধরেন। শেখ হাসিনা বলেন, ‘অনেকে আন্দোলন করেছে, বলছেন, ভারতে কমিয়েছে। ভারতে দাম কত গ্যাসের? ভারতে গৃহস্থালীর জন্য গ্যাসের দাম স্থান ভেদে ৩০ থেকে ৩৭ টাকা। বাংলাদেশ দিচ্ছে ১২.৬০ টাকায়। ‘শিল্পে বাংলাদেশে দিচ্ছে ১০.৭০ টাকায়, ভারতে দাম ৪০ থেকে ৪২ টাকা।’

‘সিএনজি আমাদের এখানে ৪৩ টাকা, ওখানে (ভারতে) ৪৪ টাকা।’ ‘বাণিজ্যিকে আমরা দিচ্ছি ২৩ টাকায়, ভারতে ৬৫ টাকা।’ ‘ভারতে প্রতি বছর দুই বার গ্যাসের দাম সমন্বয় হয়। এটা তারে নীতি। ১ এপ্রিল একবার, অক্টোবরে গিয়ে আবার পর্যালোচনা। তারা সমন্বয় এর কথা বলে।’

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের একটি ভুলের কারণে এলএনজি আমদানি করতে হচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। জানান, ২০০৪-২০০৫ সালে মিয়ানমারের গ্যাসে ভারত মিয়ানমার, জাপান, চীন সবাই মিলে বিনিয়োগ করেছিল। ভারত এই গ্যাস নিতে চেয়েছিল বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে পাইপলাইন করে। ‘কিন্তু খালেদা জিয়া সরকার এই পাইপলাইনে গ্যাস নিতে দেয়নি। এখানে আমি হলে দিমাতই, আমার ভাগটা রেখে দিতাম। পাইপলাইনে মিয়ানমার থেকে গ্যাস আমদানি করলে এলএনজি আমদানি না করলেও চলত। এই গ্যাস পুরোটাই চীন নিয়ে নিচ্ছে। সেখানে গ্যাসের বিপুল মজুদ আছে।’

সংবাদ সম্মেলেন শেখ হাসিনা বলেন, মিয়ানমারের সঙ্গে চীনের ভালো সম্পর্ক রয়েছে। তারা উপলব্দি করতে পেরেছেন যে, রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে অবস্থান করা একটা চাপ। তারাও মনে করেন, বিষয়টি দ্রুত সমাধান হওয়া উচিৎ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, চীনের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার বৈঠক হয়েছে। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন তারা রোহিঙ্গাদের ফেরানোর বিষয়টি দেখবেন। আলোচনার মাধ্যমে এ সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনে তারা আবারো মন্ত্রীকে মিয়ানমারে পাঠাবে। তিনি বলেন, আমি উন্নয়নের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করি। রোহিঙ্গা সঙ্কটের কারণে এই শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত হাতে পারে বলে আমি উল্লেখ করি।


মন্তব্য