লাইভে এসে সনদ ছিঁড়ে ফেলা বাদশাকে চাকরি দিলো এসকেএম লিমিটেড

এসকেএম কোম্পানির কর্মকর্তাদের সাথে বাদশা মিয়া
এসকেএম কোম্পানির কর্মকর্তাদের সাথে বাদশা মিয়া  © সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক লাইভে এসে শিক্ষা সনদ ছিঁড়ে ফেলা সেই বাদশা মিয়াকে চাকরি দিলো এসকেএম লিমিটেড নামে একটি কোম্পানি। কোম্পানির চেয়ারম্যান মুফতি সাইফুল ইসলাম মুঠোফোনে বাদশাকে চাকরির প্রস্তাব দিলে তিনি এসএকএম কোম্পানির সাথে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

কোম্পানির চেয়ারম্যান মুফতি সাইফুল ইসলাম জানান, গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পরে আমরা জানতে পারি, বাদশা মিয়া সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন আবেদন করেও চাকরির সুযোগ পাননি। এক পর্যায়ে হতাশ হয়ে লাইভে এসে নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতার সমস্ত সনদ পুড়িয়ে ফেলেন। এরপরই আমরা বাদশা মিয়াকে আমাদের সাথে কাজ করার জন্য প্রস্তাব দেই। আগামী দুই-একদিনের মধ্যেই তিনি ঢাকার কামরাঙ্গির চরে আমাদের কোম্পানির প্রধান ব্র্যাঞ্চে যোগদান  করবেন।

চাকরির সুযোগ পেয়ে বাদশা মিয়া বলেন, এসকেএম লিমিটেড কোম্পানির প্রতি আমি অনেক কৃতজ্ঞ। কারণ তারা আমাকে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ দিয়েছেন। তাদের প্রতি আমি সারাজীবন কৃতজ্ঞ থাকবো। তারা আমার দুর্দিনে পাশে দাঁড়িয়েছেন। আমাকে চাকরি দিয়েছেন। আমি আমার যোগ্যতা এবং উদ্যমতার পুরোটাই কোম্পানিকে দেওয়ার চেষ্টা করবো। 

জানা যায়, এসকেএম লিমিটেড কোম্পানি মূলত চামড়ার জুতা, পাঞ্জাবি তৈরি এবং বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান। দেশের বেশ কয়েকটি জেলায় তাদের শোরুম আছে। পাশাপাশি তারা স্কিল ডেভেলপমেন্টের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দিয়ে তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরিতে কাজ করেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে নীলফামারী সরকারি কলেজ থেকে পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক পাস করেন বাদশা মিয়া। তবে অর্থাভাবে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করতে পারেননি। এর আগে ২০০৭ সালে বিজ্ঞান বিভাগে দাখিল, ২০০৯ সালে বিজ্ঞান বিভাগে আলিম পাস করেন। প্রায় ২০টি সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা দিয়েও চাকরি পাননি নীলফামারীর ডিমলার এই তরুণ। চাকরি না পেয়ে ফেসবুক লাইভে এসে তার সকল সনদ ছিঁড়ে ফেলে গ্রামে কৃষি কাজ শুরু করেন।


সর্বশেষ সংবাদ