সার্স মোকাবেলার কৌশল প্রয়োগে করোনায় বাজিমাত সিঙ্গাপুরের

  © সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র, ইতালির মতো বিশ্বের সব বড় বড় রাষ্ট্র যখন করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় হিমশিম খাচ্ছে। জরুরি অবস্থা, লকডাউন এমনকি অনেক দেশ করোনা প্রতিরোধে মাঠে নামিয়েছে সেনাবাহীনিও। তবুও তারা পেরে উঠছে না প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের সাথে। তবে পেরেছে সিঙ্গাপুর। সেখানকার বাসিন্দারা দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে। খোলা রয়েছে হোটেল, রেস্টুরেন্ট, স্কুল, গীর্জা। সবকিছুই চলছে আগের নিয়মে। যা দেখে অবাক হয়েছে বিশ্ব নেতারা।

সিঙ্গাপুর এমনটি করতে পেরেছে তাদের পূর্ব প্রস্তুতির কারনে। এর আগে ২০০২-২০০৩ সালে সার্সের মহামারীতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় সিঙ্গাপুর। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এবার করোনাকে মোকাবেলায় সব কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে তারা। সার্সের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে করোনা ছড়িয়ে পড়ার মূহুর্তেই নিয়ে নেয় প্রস্তুতি। আর তাতেই বাজিমাত করে সিঙ্গাপুরবাসী। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৫৫৮ জন করোনায় আক্রান্ত শনাক্ত করা হয়েছে, মারা গেছে ২ জন।

করোানার প্রস্তুতি হিসেবে প্রথমেই আইসোলেশন হাসপাতাল বানানো হয়েছে, রোগীদের জন্য বিশেষ রুমেরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। চীনের উহানে করোনা উদ্ভবের পরে থেকেই এর ভয়াবহতা সম্পর্কে অনুমান করেছিল সিঙ্গাপুর। সেই থেকেই বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটি।

যে বা যার করোনা পজেটিভ এসেছে তাকে প্রথম থেকেই আলাদা রাখা হয়েছে। হোম কোয়ারেন্টিনের বিষয়টা অনেক সচেতনভাবে তদারকি করেছে তারা। কোয়ারিন্টের সময় পরিবারের অন্য সদস্যদের সাথে দূরত্ব বজায় রাখা, আলাদা বাথরুম ব্যবহার, বাসায় কোন অতিথি গ্রহণ না করা ইত্যাদি বিষয়। পুরোপুরি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত রোগীর সেবা করা হয়েছে। যাদের ঝুকিঁর পরিমাণ মোটামুটি তাদেরকে হাসপাতালে রাখা হয়েছিল।
যারা সেল্ফ আইসোলেশনে ছিল তাদের সবার ফোন ট্র্যাকিং করে কতৃপক্ষ। সেই সাথে আক্রান্ত সবার সাথে আলাদা করে যোগাযোগ করে। সামান্য লক্ষণে দেখা দিলেই তাদেরকে টেস্ট করানো হয়। শতকরা ১ ভাগেরও কম মানুষের টেস্ট পজেটিভ আসে। যাদের মধ্যে কোন লক্ষণ দেখা দেয় না তাদেরকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়। এক্ষেত্রেও কয়েকটি নিয়ম মেনে চলতে হবে। দিনে কয়েকবার, আপনি একটি এসএমএস পাবেন এবং আপনাকে একটি লিঙ্কে ক্লিক করতে হবে যা আপনার ফোনটি কোথায় তা দেখিয়ে দেবে।

আপনি যদি প্রতারণা করেন এবং আপনার ফোনটি অন্য কারও কাছে ঘরে রেখে যান, তবে সরকারের লোকেরা যখন তখন দরজায় নক করবে। অমান্য করলে জরিমানা হবে বেশ কঠোর। তবে একান্তই বাইরে যাওয়ার দরকার হলে জনাসমাগম এড়াতে হবে, মাস্ক পরতে হবে। রেঁস্তোরা ও বারগুলোতে তাদের ব্যবসায়কে সংকুচিত করতে বলা হয়েছে, কারণ লকডাউন করা কোন সমাধান না। এতে মানুষ মানসিকভাবে ভেঙ্গে পরবে বলে ধারণা সিঙ্গাপুরবাসীর।

মোট কথা অন্যান্য দেশের করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় কি করা উচিত সে বিষয়ে প্রতিনিয়ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিঙ্গাপুর। কিছুদিন পরপরই সচেতন করে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়েছে সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী। আর এসব সচেতনতাই দেশটিকে প্রাণঘাতী করোনায় মোকাবেলায় সাহায্য করছে।


মন্তব্য

এ বিভাগের আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ