ছিন্নভিন্ন ছিল লাশ, সনাক্ত হয় লাল আংটি দেখে

ছিন্নভিন্ন ছিল লাশ, সনাক্ত হয় লাল আংটি দেখে
লাল আংটি দেখেই শনাক্ত করা হয় সোলাইমানির লাশ   © সংগৃহীত

দেহ থেকে পুরো হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তবে আঙুলে জ্বলজ্বল করছে লাল রংয়ের বড় আংটি। ওই আংটি দেখেই ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ডসের অভিজাত বাহিনী কুদস ফোর্সের প্রধান কাসেম সোলাইমানির ছিন্নভিন্ন লাশটি শনাক্ত করা হয়।

শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) ইরাকের রাজধানী বাগদাদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মার্কিন ড্রোন হামলায় মৃত্যু হয় সোলাইমানির। ওই সময় সোলাইমানির সঙ্গেই ছিলেন ইরানপন্থী ইরাকি আধা সামরিক বাহিনীর ডেপুটি কমান্ডার আবু মাহদি আল-মুহান্দিসও। তিনিও মারা যান।

এসময় দুটি লাশই সম্পূর্ণ ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছিল। তাই আঙুলের লাল আংটি দেখে সোলাইমানির লাশটি শনাক্ত করা হয়। হামলার খবর পেয়েই বাগদাদ বিমানবন্দরে পৌঁছে গিয়েছিলেন ইরাকি সাংবাদিকরা। তারপরই ঘটনাস্থলের একাধিক ছবি-ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে যায়। সেখানে একাধিক ভিডিওতে ওই আংটির ছবি জুম করে দেখানো হয় এই ছবি।

এদিকে যুদ্ধ বন্ধ করতেই ইরানের বিপ্লবী গার্ডের শীর্ষ কমান্ডার জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের ক্ষমতা পরিবর্তনের কোনো ইচ্ছায় তার নেই বলেও উল্লেখ করেন ট্রাম্প। এরমধ্যেই নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যে তিন হাজার সেনা মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

শনিবার কয়েক হাজার মানুষ সোলেমানির জানাযায় অংশ নিয়েছিলেন। বেশিরভাগেরই পরনে ছিল কালো পোশাক। হাতে ধরা ছিল ইরাকের জাতীয় পতাকা। কেউ কেউ সোলাইমানির ছবি হাতেও জানাযায় যোগ দিয়েছিলেন। এদিন জানাজা সম্পন্ন হয় ইরাকি আধা সেনা হাশেদ আল-শাবির ডেপুটি কমান্ডার আল-মুহান্দিসেরও।

হাশেদের তরফেই এদিনের এই জানাযায় আয়োজন করা হয়েছিল। বাগদাদের গ্রিন জোন থেকে শুরু হয়ে ওই মিছিল শিয়াদের পবিত্র শহর কারবালা এবং নাজাফে যায়। রোববার সোলাইমানির লাশ ইরানে নিয়ে আসা হবে। সেখানে দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেইনি আরেকবার তার নামাজে জানাযা পড়বেন। তারপর সোলেমানির জন্মভূমি কারমান টাউনে তাকে দাফন করা হবে।

এর আগে গত শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) ভোরে ইরাকের রাজধানী বাগদাদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে দু’টি গাড়িতে হেলিকপ্টার থেকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় সন্ত্রাসী মার্কিন সেনারা। এতে ইরানের কুদস ব্রিগেডের কমান্ডার মেজর জেনারেল কাসেম সোলাইমানি ও ইরাকের হাশদ আশ-শাবির বাহিনীর সেকেন্ড-ইন-কমান্ড আবু মাহদি আল-মুহান্দিস নিহত হন।

গত বছরের মার্চে জেনারেল সোলাইমানিকে ইরানের সর্বোচ্চ বীরের পদক পরিয়ে দিয়েছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খোমেনি।


মন্তব্য

এ বিভাগের আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ