বিদ্যাসাগর কলেজের মূর্তি ভাঙার প্রতিবাদে মিছিল

কলকাতায় বিদ্যাসাগর কলেজের মূর্তি ভাঙার ঘটনার প্রতিবাদে মিছিল করেছে বাম সংগঠনগুলো। বিজেপি সভাপতি অমিত শাহের রোড শো চলাকালীন তৃণমূল ও বিজেপি সংঘর্ষে কলেজ স্ট্রিট সংলগ্ন বিদ্যাসাগর কলেজ ভাঙচুর করা হয়। বুধবার কলেজ স্ট্রিট থেকে এ মিছিল বের করে বাম সংগঠনগুলো।

মিছিলের নেতৃত্বে ছিলেন- বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু, সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র, নীলোৎপল বসু, সিপিআই(এম) পলিটব্যুরো সদস্য ও সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি এবং পলিটব্যুরো সদস্য প্রকাশ করাত প্রমুখ। মিছিলে আরও অংশ নেয় বামপন্থী শিক্ষক, সাংস্কৃতিক ও ছাত্র সংগঠনগুলো।

অমিত শাহের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে কলকাতার আমহার্স্ট স্ট্রিট থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজের শিক্ষার্থীরা। অভিযোগে অমিত শাহের নেতৃত্বেই তাণ্ডবের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন তারা। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৫৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সিপিআই (এম)-এর রাজ্য কমিটির সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র বলেন, এ ধরণের বর্বরোচিত ঘটনার মধ্য দিয়ে বিজেপি ও তৃণমূলের চরিত্র মানুষের সামনে আরও স্পষ্ট হলো। রোড শোকে কেন্দ্র করে কলকাতায় ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে তৃণমূল ও বিজেপি সমর্থিত দুষ্কৃতকারীরা। সংঘর্ষে দু’পক্ষই দুষ্কৃতকারী জড়ো করেছিল, যাদের অনেকেই বহিরাগত। দু’দলের পক্ষ থেকেই উসকানিমূলক ও প্ররোচনামূলক স্লোগানও দেওয়া হচ্ছিল। দু’দিক থেকেই ইট-রড ছোড়া ও আগুন লাগানো হয়েছে৷ এক হিংসাত্মক ঘটনার সাক্ষী হলো শহরবাসী। এমনকি দুষ্কৃতীরা বিদ্যাসাগরের মূর্তিও ভাঙচুর করেছে। এ ধরনের ঘটনার মাধ্যমে তীব্র মেরুকরণের রাজনীতি করে মানুষকে ভাগ করতে চাইছে তৃণমূল ও বিজেপি।

রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র বলেন, মঙ্গলবার কলেজ স্ট্রিট চত্বরে যে গুণ্ডামির খণ্ড চিত্র দেশের মানুষ দেখল, সেটা পশ্চিম বাংলার মানুষের কাছে লজ্জাজনক। যারা বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙল তাদের আর যাই হোক রাজনৈতিক কর্মী বলা যায়না। তৃণমূলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আবারও প্রমাণ হলো রাজ্যের রাজনৈতিক সংস্কৃতি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।

এ ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও। ঘটনার পরে রাতে দলটির প্রধান মমতা বন্দোপাধ্যায় টুইটার ও ফেসবুক প্রোফাইলে নিজের ছবি পরিবর্তন করে বিদ্যাসাগরের ছবি রাখেন। একই সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের অফিসিয়াল টুইটার পেজের প্রোফাইল ছবিও পরিবর্তন করা হয়েছে।


মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ