বুক রিভিউ

হুমায়ূন আহমেদের ‘হিমুর হাতে কয়েকটি নীলপদ্ম’

  © টিডিসি ফটো

হুমায়ূন আহমেদের সৃষ্ট অনন্য এক চরিত্রের নাম হিমু। এটা এতো বেশি জনপ্রিয় যে, প্রতিটি ছেলে একবার হলেও নিজেকে হিমু ভাবে। স্যারের সৃষ্ট এই চরিত্র বেশ রহস্যময়। তার পুরো নাম হিমালয়। হিমুর বাবা ঠিক কেন এই নাম দিয়েছিলেন তা হিমু নিজেও জানে না। তবে তাকে মহাপুরুষ হতে বলেছিলেন। সে মহাপুরুষ হিসেবে কতটা সফল ছিল তা না বুঝতে পারলেও সে মহাপুরুষ হতে চেষ্টা করেছে। তা লেখক আমাদের কে বুঝিয়েছেন। হিমু মানেই একটা অগোছালো ছেলে, পায়ে জুতো নেই, থাকতেও পারে বেশির ভাগ সময় থাকে না। তার কোন নির্দিষ্ট থাকার জায়গা নেই।

যাই হউক, হিমু চরিত্রের এই গল্পটি শুরু হয়েছে চমৎকার একটা দিনের বর্ণনা দিয়ে। কিন্তু হিমু তো হিমুর মতোই। স্বভাবতই এমন দিনেও সে উদ্ভট কিছু কাজ করেছে। তার ফলশ্রুতিতে সে রমনা থানায়।

তবে তার আগে হিমু রাস্তার মাঝখানে দাড়িয়েছিল, সেখানে মারিয়া নামের একটি মেয়ে তাকে দেখতে পায়। এই মারিয়া পাঁচ বছর আগে হিমুকে একটি প্রেমপত্র দিয়েছিল। এবং তা ছিল সাংকেতিক ভাষায়। সে না পারলেও তার ফুপাত ভাই বাদল ওরফে হিমুর শিষ্য এর মর্ম বুঝতে পারে। কিন্তু হিমু চিঠিটার অর্থটা জানতে কোন আগ্রহ প্রকাশ করে না।

শহরে গন্ডগোল চলছিল। কিন্তু তার মাঝেও সে চিঠি লেখক আলী আসগরকে পেল। সে একটা টুল নিয়ে বসে আছে। তিনি বেশ পরিচিত হিমুর। হিমুকে দেখে তিনি রাতে খাবারের অফার করলেন। হিমু রাজি হলো। চা খেয়ে যখন চলে এসেছে ঠিক এর কিছু পরেই সে পুলিশের হেফাজতে। পুলিশের হাতে ধরা পড়লেও পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয়। উপন্যাসের এ পর্যায়ে চিঠি লেখা আসগর সাহেবের কিছু সমস্যার সাথে হিমুও জড়িয়ে যায়।

মারিয়ার বাবার সাথে হিমুর প্রথম দেখা হয় এক পুরানো বইয়ের দোকানে। সেখান থেকেই পরিচয়। মারিয়ার বাবা আসাদুল্লাহ সাহেবের মতে সৃষ্টিকর্তা পৃথিবীর প্রতিটি ছেলেমেয়ের কাছে পাঁচটি অদৃশ্য নীলপদ্ম দিয়ে পাঠান। এই নীলপদ্মগুলি হলো প্রেম-ভালবাসা। কেউ তার নীলপদ্ম এক জনকে একটা করেও দিতে পারে কেউ সব কয়টা। যে তার পাঁচটি নীলপদ্ম কাউকে দিয়ে দেবে সে কখনো অন্য কাউকে ভালোবাসতে পারবে না।

এর মধ্য দিয়ে ঘটে গেছে আরো কত কাহিনী। হিমু মানেই কাহিনী। আর অনেকের কাছে হিমু মানেই নেশা। বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ কথাসাহিত্যিক বলা হয় হুমায়ূন আহমেদকে। হিমু তাঁর এক অসাধারণ চরিত্র। যার কোন তাড়া নেই। কোন লোভ নেই। কোন প্রাপ্তি নেই। হিমু চরিত্র ভালো লাগে না এমন কোন পাঠক খুঁজে পাওয়া যাবে না। হিমু সিরিজের সব গুলো বইই অসম্ভব জনপ্রিয় হুমায়ূন ভক্তদের মাঝে।

লেখক: শিক্ষার্থী, গণ বিশ্ববিদ্যালয়


মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ