চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রস্তুতির সাজেশন

  © টিডিসি ফটো

এক স্বপ্নের ক্যাম্পাস ও সবুজ-শ্যামলিমায় ঘেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের নৈসর্গিক সৌন্দর্য তোমাকেই অভিবাদন জানানোর জন্য অপেক্ষা করছে। উন্মুক্ত হরিণ, সমুন্নত পাহাড়, গাছে গাছে টিয়া পাখি আর ঝর্ণার কলতান কেবল তোমাকে গান শোনাবে বলে অপেক্ষমাণ রয়েছে। আর উচ্চ শিক্ষার জন্যে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে ৫৪টি বিভাগ।

এখন বলি কি করতে হবে এই নৈসর্গিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে হলে। প্রথমেই আসি ‘বি ইউনিট’ প্রসঙ্গে। এটির মাধ্যমে কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের বিভিন্ন বিষয়ে (ইংরেজি, বাংলা, ইতিহাস, ইসলামের ইতিহাস, দর্শন ইত্যাদি) ভর্তি হওয়া যায়। এখানে প্রশ্ন আসে বাংলা, ইংরেজি আর সাধারণ জ্ঞান (বাংলাদেশ+আন্তর্জাতিক) থেকে।

যে সকল বই পড়তে হবে-

বাংলা:
* বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত মুল পাঠ্য বই
* যে কোচিং এ পড়ছো তার শিট সমূহ(ভুল থাকলে সংশোধন করে পড়তে হবে)
* ৯-১০ম শ্রেণির বোর্ড নির্ধারিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ বইটি (মুনির চৌধুরী সম্পাদিত)
* সৌমিত্র শেখর স্যারের জিজ্ঞাসা বই অথবা হায়াৎ মাহমুদ স্যারের বাংলা ব্যাকরণ বইটি। এ দুটি বই ছাড়াও পারাবার, বাংলা মঞ্জুরী নামে দুটি সহায়ক বই রয়েছে।
* যে বিশ্ববিদ্যালয়ের যে ইউনিটে পরীক্ষা দিবে সে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই ইউনিটের বিগত ১০ বছরের প্রশ্ন সল্যুশন।

ইংরেজি:
বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স নির্ভর করে মূলত ইংরেজি অংশের দক্ষতার উপর। কারণ এই অংশেই অন্যদের থেকে এগিয়ে থাকার সুযোগ বেশি থাকে। যে বই পড়বে-
* মুল Text book.
* competitive exam Or, compact Or, master তবে যেটাই পড়োনা কেনো সেটা ভালো করে শেষ করতে হবে।
* vocabulary : Saifur's student vocabulary
* Common mistakes in English
* বিগত দশ বছরের প্রশ্নসমাধান।
* সহায়ক বই হিসেবে BARRON'S TOEFL OR CLIFFS TOEFL পড়বে।

(*) Text Book থেকে বিভিন্ন কবিতাগুলোর বাংলা অনুবাদ, লিটারেরি টার্ম যেমন, simile, metaphor, personification, allegory, hyperbole etc) শব্দার্থ, মূলভাব, কোনটা কে লিখেছেন- এসব বিষয় জানতে হবে। এটার জন্য বইয়ের দোকানে বিভিন্ন সহায়ক বই পাওয়া যায়। যেকোন একটা কিনে নিও। আমার কাছে Text Panacea বইটি ভালো লেগেছিল।

সাধারণ জ্ঞান:
* প্রফেসর’স বিসিএস সাধারণ জ্ঞান (বাংলাদেশ বিষয়াবলী) অথবা এমপি থ্রি (বাংলাদেশ বিষয়াবলী) অথবা নাইম ইসলামের বেসিক ভিউ, রিসেন্ট ভিউ, টেস্ট ভিউ। আর একটু বেশি পড়তে চাইলে নতুন বিশ্ব বা আজকের বিশ্ব পড়তে পারো।
* প্রফেসর’স বিসিএস সাধারণ জ্ঞান (আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী) অথবা এমপি থ্রি (আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী) অথবা নাইম ইসলামের বেসিক ভিউ, রিসেন্ট ভিউ, টেস্ট ভিউ।

সাধারণ জ্ঞানে ভালো করতে হলে বেশি বেশি পরীক্ষা দিতে হবে। ভুল থেকে শিক্ষা নিতে হবে। ম্যাপ থেকে বিভিন্ন জেলা ও দেশের অবস্থান জানা থাকলে সাধারণ জ্ঞান মনে রাখতে অনেক সহজ হয়।

এবার আসি ‘ডি ইউনিটে’র ব্যাপারে। এই ইউনিটে সায়েন্স আর্টস ও কমার্সের জন্য আলাদা করে সিট সংরক্ষিত রয়েছে। তাই কম্পিটিশনটা হবে নিজ বিভাগের সঙ্গে। যেখানে ‘বি ইউনিটে’ কম্পিটিশন ছিল সম্মিলিতভাবে।

প্রয়োজনীয় বইসমুহ:
উপরে উল্লিখিত বই-ই পড়তে হবে। তবে এখানে লিটারেচার থেকে প্রশ্ন আসবে না। তাই লিটারেচার অংশটা বাদ দিতে হবে।
আর এখানে ভাষাজ্ঞান ও বিশ্লেষণ দক্ষতা বা analytical ability নামে একটি অতিরিক্ত অংশ থাকবে। যার মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীদের বুদ্ধিমত্তা যাচাই করা হয়। তবে এই অংশে ভয় পাবার কিছু নেই।

এখানের অধিকাংশ (প্রায় ৯০%) প্রশ্নগুলো ইংরেজি অংশ থেকেই আসে। তাই ইংরেজি ভালো পারলে কোন অসুবিধা নেই। এই অংশে ভালো করার জন্য analogy, spelling, বাংলা বানান, pin-point Error, আয়নায় প্রতিবিম্ব, দুটি/একটি অংক, সম্পর্ক জনিত প্রশ্ন ইত্যাদি ভালো করে পড়লেই হবে।

‘ডি ইউনিটে’র বিগত সালের এনালাইটিক্যাল অংশের প্রশ্ন সমাধানটা পড়বে। সহায়ক বই হিসেবে তোমরা এসুরেন্সের বিসিএস প্রশ্নব্যাংক বই থেকে মেন্টাল এবিলিটি অংশটি দেখে যাবে। এই দুইটি বই মিলে যে আইডিয়া হবে সেটাকে কাজে লাগিয়ে এই অংশে ভালো করতে পারবে।

সবশেষে একটা কথাই বলব, সফলতা পরিশ্রমীদের পক্ষে। পরিশ্রম কখনো বৃথা যায় না। আজ নতুবা কাল কাজে লাগবেই। পূর্ণ হোক তোমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির স্বপ্ন।।।

লেখক: ইংলিশ লেকচারার, বিসিএস কনফিডেন্স


মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ