বুয়েট মেডিকেলের ভর্তি পরীক্ষায় সময়সূচি নিয়ে বিতর্ক

বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের ভর্তিতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও মেডিকেল কলেজ প্রথম পছন্দ থাকে। এ জন্য উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুতিও নেন। তবে এবার মাত্র একদিনের ব্যবধানে বুয়েট ও মেডিকলের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করায় বিপাকে পড়েছেন ভর্তিচ্ছুরা।

এদিকে এ দুই ভর্তি পরীক্ষার সময় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হওয়ায় তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। এবার দুর্গাপূজার ষষ্ঠীর দিনে মেডিকেল এবং সপ্তমীর দিনে বুয়েটের পরীক্ষা রয়েছে। ফলে এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।

জানা গেছে, চলতি বছরের মেডিকেল ও বুয়েটে ভর্তি পরীক্ষা হবে পরপর দুই দিন। এর মধ্যে আগামী ৪ অক্টোবর মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস কোর্সে ভর্তির পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। দেশের ১৯টি কেন্দ্রে একযোগে অনুষ্ঠিত হবে এই পরীক্ষা।

এর ঠিক এক দিন পর ৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে বুয়েটে স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তির পরীক্ষা। এ জন্য অনলাইনে আবেদনপত্র পূরণ ও জমা নেওয়া শুরু হয়েছে গত ৩১ আগস্ট থেকে। ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আবেদনপত্র পূরণ ও জমা দেওয়া যাবে।

দুর্গাপূজার সময় মেডিকেল ও বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সাংবাদিক রজিব নুর ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘দূর্গাপূ‌জার ষষ্ঠীর দিনে মেডিকেল এবং সপ্তমীর দিনে বুয়েটের ভ‌র্তি পরীক্ষা! এটা হতেই পারে না, হতে দেয়া যায় না।’

এতে বৃত্ত রায় দিপা নামে একজন কমেন্টস করেছেন, ‘কয়েক বছর ধরে এটাই চলছে। দু’বছর আগে এর প্রতিবাদে লিখেছিলাম। প্রচুর মানুষ সহমত ব্যক্ত করেছিলেন। কিন্তু আর কিছুই ঘটেনি।’

এছাড়া রাজিব নন্দন নামে একজন মন্তব্য করেছেন, ‘ভাই, এটা কোন বিষয় না। সরকারি ছুটি তো দশমীতে। ষষ্ঠী, সপ্তমী পরীক্ষা হওয়া দোষের কিছু নয়। ঈদের সরকারি ছুটি যেখানে ৩+৩=৬ দিন, পূজার বন্ধ সেখানে ১ দিন। মন্দ কি! সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিদের দেশে এটাই কাম্য।’

অপরদিকে পরপর দুই দিনে মেডিকেল ও বুয়েটে ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণায় ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও ভর্তি–ইচ্ছুক পরীক্ষার্থীরা বলেন, মেডিকেলে ভর্তির পরীক্ষা হয় দেশের বিভিন্ন জায়গায়। আর বুয়েটের পরীক্ষা হয় ঢাকায়। এর ফলে যাঁরা ঢাকার বাইরের কেন্দ্রে মেডিকেল কলেজে ভর্তির পরীক্ষা দেবেন তাঁরা বড় ধরণের সমস্যায় পড়বেন। যাতায়াতসহ বিভিন্ন কারণে তাঁদের অনেকের বুয়েটে পরীক্ষা দেওয়াই কঠিন হয়ে যাবে।

একজন অভিভাবক বলেন, একজন মেডিকেলে ভর্তি–ইচ্ছুক পরীক্ষার্থী চট্টগ্রাম কেন্দ্রে পরীক্ষা দিলেন। সেখানে তাঁর পক্ষে পরদিনই বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কতটা কঠিন, সেটা নিশ্চয়ই সবাই অনুমান করতে পারবেন। আরও একাধিক অভিভাবক তাঁদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। অভিভাবকেরা বলছেন, শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের কথা ভেবে বিষয়টি দুই কর্তৃপক্ষের পুনরায় ভাবা উচিত। 

তবে এ বিষয়ে এখনো নতুন কিছু ভাবছে না বুয়েট কর্তৃপক্ষ। বুয়েটের ভর্তি কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক প্রাণ কানাই সাহা গণমাধ্যমকে বলেছেন, তাঁরা অনেক আগেই বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করেছেন। এটি ঠিক হয়েছে উপাচার্যদের সংগঠন বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের সভায়। এ জন্য বিষয়টি মেডিকেল কর্তৃপক্ষের ভাবা উচিত ছিল। বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে এখন নতুন কিছু বলা যাবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি।

এছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরও জানিয়ে দিয়েছে, এখন তাদের কিছু করার নেই। অধিদপ্তরের পরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন) অধ্যাপক এ কে এম আহসান হাবীব গণমাধ্যমকে বলেছেন, বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিদের নিয়ে করা নির্ধারিত কমিটি মন্ত্রণালয়ে সভা করে মেডিকেলের ভর্তি পরীক্ষার দিনক্ষণ ঠিক করেছে। এখন আর কিছু করার ‘উপায়’ নেই।

এদিকে এমবিবিএস ও ডেন্টালের ভর্তি পরীক্ষার কারণে ১ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত দেশের মেডিকেল কোচিং সেন্টারগুলো বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক এ কে এম আহসান হাবীব।


মন্তব্য