মা শুধুই মা

আব্দুল হামিদ ও তার মা  © সংগৃহীত

শারীরিক প্রতিবন্ধী মো. আব্দুল হামিদ যেন কোনো কিছুতেই হার মানতে চান না। জীবনযুদ্ধে জয়ী হবার স্বপ্নে বিভোর হামিদ। শারীরিক প্রতিবন্ধতাকে পেছনে ফেলে মায়ের কোলে চড়ে জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে হামিদ। ঘটনাটি খাগড়াছড়ির পানছড়ির। হামিদ ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার শিক্ষার্থী।

হামিদের কৃতিত্বে সমান অংশিদার তার মা। মায়ের কোলে চড়েই পিএসসি শেষ করে এখন জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে সে। একজন মায়ের অদম্য চেষ্টা আর ত্যাগের কারণে জেডিসির মঞ্চে মো. আব্দুল হামিদ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শনিবার মা হামিদা বেগম ছেলেকে কোলে নিয়ে আসেন পানছড়ি ইসলামিয়া সিনিয়র মাদরাসা পরীক্ষা কেন্দ্রে। হামিদকে পরীক্ষার নির্ধারিত আসনে বসিয়ে বাইরে অপেক্ষা করেন মা। পরীক্ষা শেষ হলে হামিদকে কোলে নিয়ে বাড়ি ফেরেন তার মা।

এবিষয়ে পানছড়ি ইসলামিয়া সিনিয়র মাদরাসার অধ্যক্ষ মাও. আবুল কাশেম বলেন, শারীরিক প্রতিবন্ধী মো. আব্দুল হামিদ নিজের পায়ে ভর করে হাঁটতে না পারায় মায়ের কোলে করেই নিয়মিত ক্লাসে আসতো। প্রতিবন্ধী হওয়ায় আমরাও সবসময় তার প্রতি একটু যত্নশীল ছিলাম। তবে হামিদের মার ত্যাগের কারনেই হামিদের এ সাফল্য। মায়ের এ অসাধারণ ত্যাগ, পরিশ্রম ও ভালোবাসার সঙ্গে কারও ভালোবাসার কখনই তুলনা হয়। মা শুধুই মা।

আব্দুল হামিদের বাবা মো. আব্দূল আলী (পিঠা মেম্বার) ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। দু’দুবার বসতবাড়িসহ দোকান আগুনে পুড়ে নিঃস্ব হওয়া মো. আব্দুল আলী (পিঠা মেম্বার) পানছড়ি ইসলামিয়া সিনিয়র মাদরাসার সামনে একটি টঙ দোকানে চা বিক্রি করেন। আর শীতের মৌসুমে ভাপা পিঠা বিক্রি করেন। একটি ছোট্ট চা দোকানই তার ভরসা। পুঁজি সঙ্কটে ব্যবসা ও সংসারের ব্যয়ভার চালাতে হিমসিম খেলেও সন্তানের জন্য সবটুকু উজাড় করে দিয়েছেন তিনি।


মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ